গাইবান্ধার আদালত অঙ্গনে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে জালিয়াতির দুটি পৃথক ঘটনা সামনে এসেছে। এক ঘটনায় বিচারক আদালতে না বসলেও ভুয়া জামিনের আদেশ তৈরি করে আসামির হাতে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্য ঘটনায় জাল জন্মসনদ ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু সাজিয়ে জামিন করানো, আদালতের অর্ডারশিটে কাটাকাটি এবং মামলার নথি গায়েবের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
প্রথম ঘটনায় নারী নির্যাতন মামলার আসামি জান্নাতুল ইসলাম গত ২১ সেপ্টেম্বর জামিনের ‘রিকল’ হাতে পান। নিয়ম অনুযায়ী সেটি গোবিন্দগঞ্জ থানায় জমা দেওয়ার পর কয়েক দিন পর তিনি জানতে পারেন, আদেশটি ভুয়া। তার অভিযোগ, মুহুরি শাহীন ও আদালতের বেঞ্চ সহকারী গাজী আলী আহসানের মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। স্বজন সাজু মিয়ার দাবি, এক লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধের পর জান্নাতুলকে জামিনের কথা জানানো হয়েছিল।
তবে আদালত সূত্র জানায়, ২১ সেপ্টেম্বর বিচারক অনুপস্থিত থাকায় গাইবান্ধার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ বসেনি। ফলে সেদিন কোনো মামলার শুনানিও হয়নি। এ অবস্থায় জামিনের রিকল কীভাবে তৈরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মুহুরি শাহীন ও বেঞ্চ সহকারী গাজী আলী আহসান দাবি করেছেন, ওই ভুয়া রিকল তাদের মাধ্যমে তৈরি বা ইস্যু হয়নি। বেঞ্চ সহকারী জানান, বিষয়টি নিয়ে জিডির খসড়া তৈরি করা হলেও তা এখনো দাখিল করা হয়নি।
এদিকে এর আগে গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মসনদ তৈরি করে প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন করানোর অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনায় জেলা বারের আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপন, তার মুহুরি হাসান আলী এবং তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
আদালতের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ এবং তার মুহুরি হাসান আলীর নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলাটি করা হয়। এর আগে ৩০ আগস্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এর বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি ঘটনায় আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নথিপত্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইনজীবীরা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

গাইবান্ধা সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ