নদীভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে লেবুতলা-ডুমরিয়া সড়ক

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১১:০১ পূর্বাহ্ণ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শৈলদাহ নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে রয়েছে লেবুতলা-ডুমরিয়া সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশ। নদীর তীব্র স্রোতে ডুমরিয়া ইউনিয়নের সড়াবাড়ী, চিথলিয়া ও ছোট ডুমরিয়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ১০ গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে ভেঙে ও দেবে গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। কোথাও কোথাও সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে যাত্রী নামিয়ে ভ্যান চালাতে হচ্ছে। গন্তব্যে যেতে স্থানীয়দের ৯ থেকে ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট ও পিরোজপুরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শৈলদাহ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ কিলোমিটার। নদীটির গড় প্রস্থ ৩৪০ মিটার। আঁকাবাঁকা গতিপথের কারণে নদীটি ভাঙনপ্রবণ হিসেবে পরিচিত।

ভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি, ফসলি জমি, পানির ট্যাংক, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ বড় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় ভ্যানচালক আনন্দ কীর্তনীয়া ও নূর মোহাম্মদ শেখ বলেন, সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় ভ্যান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। টায়ার লিক হওয়া, চেইন ছিঁড়ে যাওয়া এবং বিয়ারিং ও মোটর নষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। ডুমরিয়া থেকে পাকুরতিয়া যেতে প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে। তারা দ্রুত ভাঙন রোধ করে সড়ক সংস্কারের দাবি জানান।

সড়াবাড়ী গ্রামের কলেজছাত্র হৃদয় শেখ বলেন, নদী একের পর এক বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও সড়ক গিলে খাচ্ছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করলেও জরুরি প্রয়োজনে বড় গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না।

চিথলিয়া গ্রামের বাসন্তী মিস্ত্রি বলেন, ভাঙনে তাদের বসতঘর আগেই নদীতে চলে গেছে। এখন জমিও ভাঙনের মুখে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেললেও ভাঙন বন্ধ হচ্ছে না। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া ফেরদৌস বলেন, ডুমরিয়া ইউনিয়নের তিনটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে বালুর বস্তা ডাম্পিং করে অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। শৈলদাহ নদীর ভাঙন প্রতিরোধে সাউথ ইস্ট প্রকল্পের আওতায় স্থায়ী প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন