আলোক ফাঁদে কমছে আমনে বালাইনাশকের অপচয়

লালমনিরহাট সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১২:০৩ অপরাহ্ণ

আমন ধানের ক্ষেতে অপরিমিত ও অপ্রয়োজনীয় বালাইনাশকের ব্যবহার কমাতে লালমনিরহাটে ‘আলোক ফাঁদ’ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী বালাই ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি পরিবেশ ও উপকারী পোকামাকড় রক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সদর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন ব্লকে প্রতি সপ্তাহে একযোগে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে। আমন ক্ষেতের পাশে আলো জ্বালিয়ে তার নিচে সাবান বা কেরোসিন মিশ্রিত পানির পাত্র রেখে তৈরি করা হচ্ছে এ ফাঁদ।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোয়াহেল আহমেদ বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ক্ষতিকর পোকার সঙ্গে উপকারী পোকাও মারা যায়। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। আলোক ফাঁদের মাধ্যমে মাঠে থাকা পোকামাকড় শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, আলোর আকর্ষণে ফাঁদে পড়া পোকামাকড় পর্যবেক্ষণ করে জমিতে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকার উপস্থিতি নির্ধারণ করা হয়। এরপর পোকার পরিমাণ ও ধরন অনুযায়ী কৃষকদের বালাইনাশক প্রয়োগ কিংবা অন্যান্য বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের গুড়িয়াদহ ব্লকে আলোক ফাঁদ কর্মসূচি পরিদর্শন করেন জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী বলেন, অনেক সময় কৃষকেরা না বুঝেই জমিতে অতিরিক্ত বালাইনাশক প্রয়োগ করেন। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি উপকারী পোকামাকড়ও ধ্বংস হয়। আলোক ফাঁদের মাধ্যমে পোকা শনাক্ত করে পরিমিত বালাইনাশক ব্যবহার করলে ফসল নিরাপদ রাখার পাশাপাশি কৃষকের খরচও কমানো সম্ভব।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোয়াহেল আহমেদ জানান, আলোক ফাঁদ ব্যবহারে বালাইনাশকের অপচয় কমার পাশাপাশি আগাম বালাই সতর্কতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে সদর উপজেলার আমন ক্ষেতগুলোর সার্বিক অবস্থা সন্তোষজনক।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি আমন মৌসুমে লালমনিরহাট সদর উপজেলায় হাইব্রিড ও উফশীসহ বিভিন্ন আধুনিক জাতের মোট ১৫ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন