আবারও নতুন কুঁড়ি, খোঁজা হবে নতুন প্রজন্মের প্রতিভা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৮:৪৪ অপরাহ্ণ

একসময় দেশের শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশের অন্যতম পরিচিত মঞ্চ ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জনপ্রিয় আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি’। গান, অভিনয়, নৃত্য, আবৃত্তিসহ বিভিন্ন শাখায় প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের তুলে আনার এই আয়োজন থেকে পরবর্তী সময়ে পরিচিতি পেয়েছেন সামিনা চৌধুরী, তারানা হালিম, রুমানা রশিদ ঈশিতা, তারিন জাহান, মেহের আফরোজ শাওন ও নুসরাত ইমরোজ তিশাসহ অনেকে।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালে আবারও পর্দায় ফেরে ‘নতুন কুঁড়ি’। এবার দ্বিতীয়বারের মতো নতুন প্রজন্মের প্রতিভা খুঁজতে শুরু হচ্ছে আয়োজনটির কার্যক্রম। আগামী ১ অক্টোবর থেকে ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৬’-এর জন্য আবেদন নেওয়া হবে। আবেদন করা যাবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিটিভির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যেসব বিষয়ে হবে প্রতিযোগিতা

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিযোগীদের প্রাথমিক বাছাই শুরু হবে। এরপর বিভাগীয় পর্যায়ের বাছাই শেষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্ব ও ফাইনাল প্রতিযোগিতা।

‘নতুন কুঁড়ি ২০২৬’-এ অভিনয়, আবৃত্তি, গল্প বলা ও কৌতুক, সাধারণ ও উচ্চাঙ্গ নৃত্য, দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গান, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকসংগীত এবং হামদ-নাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া ক্বিরাতের জন্য থাকবে আলাদা প্রতিযোগিতা।

বয়স অনুযায়ী দুই শাখা

বয়সের ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের দুটি প্রধান শাখায় ভাগ করা হয়েছে। ‘ক’ শাখায় অংশ নিতে পারবে ৬ বছর থেকে ১১ বছরের কম বয়সী শিশুরা। আর ‘খ’ শাখায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের।

ক্বিরাত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা। ফলে বিভিন্ন বয়সের শিশু-কিশোরদের জন্য নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ থাকছে এবারের আয়োজনেও।

গতবারের চ্যাম্পিয়ন প্রেয়সী ও শুভমিতা

দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালে আবার শুরু হওয়া ‘নতুন কুঁড়ি’র প্রথম আসরে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ‘ক’ ও ‘খ’ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় টাঙ্গাইলের প্রেয়সী চক্রবর্তী ও সুনামগঞ্জের শুভমিতা তালুকদার।

এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে চায় বিটিভি।

‘আগামী দিনের সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব খুঁজতে চাই’

বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক কাজী জেসিন বলেন, এমন কিশোর-কিশোরীদের তুলে আনার লক্ষ্য নিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি’ আয়োজন করা হচ্ছে, যারা আগামী দিনের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দিতে পারবে।

তিনি জানান, দেশের আনাচকানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবানদের নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় যুক্ত করা হবে। এরপর সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিভা বাছাই করা হবে।

জাতীয় গণমাধ্যম হিসেবে ‘নতুন কুঁড়ি’র মাধ্যমে জাতির মনন গঠনের উপযোগী কনটেন্ট ও বিষয় সমৃদ্ধ করার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও থাকবে প্রচার

বর্তমান প্রজন্মের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবকেন্দ্রিক হওয়ায় তাদের কাছে ‘নতুন কুঁড়ি’র বার্তা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল মাধ্যমকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিটিভি।

কাজী জেসিন বলেন, পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং দেশের প্রান্তিক পর্যায়েও প্রচারের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আগের মতো দীর্ঘ সময় ধরে টেলিভিশনের সামনে বসে অনুষ্ঠান দেখার প্রবণতা কমেছে। তাই কয়েক মিনিটের ছোট কনটেন্টের মাধ্যমে দর্শকদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক বাছাইয়ে যারা নির্বাচিত হবে, তাদের গল্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে তুলে ধরা হবে।

পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে নতুনদের খোঁজ

‘নতুন কুঁড়ি’র ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান টেলিভিশনে প্রথম অনুষ্ঠানটির প্রচার শুরু হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে মুস্তাফা মনোয়ারের প্রযোজনায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে নতুন করে যাত্রা শুরু করে এটি।

শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশের এ আয়োজন ২০০৫ সাল পর্যন্ত চলার পর বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই দশকের বিরতি শেষে ২০২৫ সালে আবার বিটিভির পর্দায় ফিরে আসে ‘নতুন কুঁড়ি’।

এ আয়োজনের মঞ্চ থেকেই বিভিন্ন সময়ে বিনোদন অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন অনেক শিল্পী। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় নতুন প্রজন্মের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক প্রতিভা খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে বিটিভি।

আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নিবন্ধন চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের জন্য আবারও নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৬’-এর মাধ্যমে।

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন