দালালমুক্ত ও রোগীবান্ধব হাসপাতাল গড়তে রাজশাহীতে সিভিল সার্জনের তৎপরতা

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:৩২ অপরাহ্ণ

রাজশাহী জেলার উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, দালালমুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম. রাজিউল করিমের নেতৃত্বে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী জেলায় দায়িত্ব নেওয়ার পর সিভিল সার্জন জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করছেন। নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবা, ওষুধ সরবরাহ, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, পানি ও বেড ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয় তদারকি করা হচ্ছে।

হাসপাতালগুলোতে দালাল চক্রের তৎপরতা বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীদের সেবা সহজ করা এবং বিনামূল্যের সরকারি ওষুধ যথাযথভাবে রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত কুমার সরকার বলেন, সিভিল সার্জনের নিয়মিত দিকনির্দেশনা ও পরামর্শে তাঁরা কাজ করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন। রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ এবং হাসপাতালকে নিজের পরিবারের মতো দেখভালের বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দেন।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অসীম কুমার কর্মকার বলেন, সিভিল সার্জন দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের কাজের গতি বেড়েছে। হাসপাতালে আসা প্রতিটি রোগীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করে সেবা দেওয়ার বিষয়ে তিনি চিকিৎসকদের উৎসাহিত করেন।

দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, সিভিল সার্জনের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে তাঁদের হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখার পাশাপাশি রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন তাঁরা।

এদিকে অনিবন্ধিত ও মানহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহায়তায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন। তাঁর দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি কমছে। পাশাপাশি এনজিওগুলোর সহযোগিতায় স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডা. এস.আই.এম. রাজিউল করিম বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবার মান মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তাঁরা কাজ করছেন। জেলার উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত ও রোগীবান্ধব পরিবেশে পরিচালনার চেষ্টা চলছে। নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও একটি ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনিবন্ধিত ও মানহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা উন্নত হলে এর সরাসরি সুফল পাবেন সাধারণ রোগীরা। তবে এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সেবার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন