ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩০০ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ২ হাজারের বেশি রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
সাত প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইবোলা সংক্রমণ ইতোমধ্যে কঙ্গোর সাতটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বুন্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের কারণে চলমান এই প্রাদুর্ভাবটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী ইবোলা সংক্রমণে পরিণত হয়েছে। এটি ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের আগের বড় প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্বের প্রাণঘাতী ইবোলা মহামারিগুলোর মধ্যে কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবের চেয়ে বড় ছিল ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার মহামারি। গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ছড়িয়ে পড়া ওই প্রাদুর্ভাবে ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি আক্রান্ত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।
কোথাও সংক্রমণ কমলেও নতুন এলাকায় ছড়াচ্ছে
কঙ্গো সরকার ও জাতিসংঘ সেপ্টেম্বর মাসে জানিয়েছিল, প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র ইটুরি প্রদেশের কিছু এলাকায় সংক্রমণের গতি কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য এলাকায় পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। বিশেষ করে নর্থ কিভু প্রদেশে নতুন করে সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাউথ উবাঙ্গি সেপ্টেম্বর মাসে কঙ্গোর সপ্তম প্রদেশ হিসেবে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেয়। পূর্ব কঙ্গো থেকে সেখানে যাওয়া এক ব্যক্তি ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর ওই প্রদেশে সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
চলমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসাকেন্দ্র বাড়ানো, আক্রান্তদের শনাক্তকরণ, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অনুসরণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানুষের চলাচল, চিকিৎসা অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং স্বাস্থ্যকর্মী ও অর্থের ঘাটতি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
কালের আলো/এসএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:১২ অপরাহ্ণ