ট্রাম্পের নৈশভোজে তারেক-জুবাইদা, ছবিতে কূটনীতির নতুন দৃশ্য

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:৩৩ অপরাহ্ণ

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে তাঁর ও স্ত্রী জুবাইদা রহমানের অংশগ্রহণের ছবি। শনিবার (০৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছবিটি প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী একটি গণমাধ্যমকে ছবিটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এটি হোয়াইট হাউসের সৌজন্যে পাওয়া।

  • ভাষণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজনে উপস্থিতি
  • বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগে ঢাকার নতুন বার্তা

গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বিশ্বনেতা ও তাঁদের স্বামী-স্ত্রীদের সম্মানে ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ওই নৈশভোজের আয়োজন করেন। ছবিতে ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ, নজর কূটনৈতিক যোগাযোগে

জাতিসংঘের অধিবেশনকে ঘিরে বিশ্বনেতাদের এমন সমাবেশ শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের সুযোগও তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের একই ছবিতে উপস্থিতি বাংলাদেশের নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি দৃশ্যমান মুহূর্ত। নৈশভোজটি ছিল বিশ্বনেতাদের সম্মানে আয়োজিত একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি কূটনৈতিকভাবে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।

প্রথম জাতিসংঘ ভাষণে পুনর্গঠনের বার্তা

গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান তারেক রহমান। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ভাষণ। ভাষণে দেশের পুনর্গঠনে ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’—এই তিন ভিত্তির ‘থ্রি-আর’ কৌশলের কথা তুলে ধরেন তিনি। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

রোহিঙ্গা ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। এ জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

মেলানিয়ার আয়োজনে জুবাইদার অংশগ্রহণ

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে মেলানিয়া ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্ত্রীদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন। সেখানে শিশুদের কল্যাণে তাঁর উদ্যোগ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ তুলে ধরা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের এ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ফলে তারেক রহমানের এবারের জাতিসংঘ সফরে একদিকে যেমন উঠে এসেছে দেশের পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান, অন্যদিকে তেমনি দৃশ্যমান হয়েছে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগের পরিসর। ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশিত ছবিটি সেই কূটনৈতিক তৎপরতারই সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন