বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে আরও বেশি আসতে চান বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি সংসদ সদস্য রূপা হক। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবন, পরিচয় ও দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের নানা দিকও তুলে ধরেছেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘বাংলাদেশ সীমানা ছাড়িয়ে প্রবাসী’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
রূপা হক বলেন, আগে বাংলাদেশে এলে রিকশাচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ তাকে ‘আপা’ বা ‘আপু’ বলে ডাকতেন। এবার কেউ কেউ তাকে ‘খালামণি’ বা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করছেন। তার ভাষায়, এতে নিজের বয়স বাড়ার বিষয়টি যেমন বোঝা যায়, তেমনি বাংলাদেশের মানুষের সম্মান জানানোর সংস্কৃতিটিও ফুটে ওঠে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি হিসাবে প্রায় ৮৭ লাখ বাংলাদেশি দেশের বাইরে বসবাস করেন। বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে মানুষের নিয়মিত যাতায়াত ও যোগাযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী সৌদি আরবে বসবাস করেন, যার সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া ফ্রান্সের প্যারিস ও স্পেনের মাদ্রিদেও বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে।
রূপা হক বলেন, বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজকে একক কোনো পরিচয়ে দেখা যায় না। কারও পরিবার বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে, আবার তার মতো অনেকে বিদেশে জন্মেছেন। এমন বাংলাদেশিও রয়েছেন, যারা জীবনে কখনো বাংলাদেশে আসেননি। প্রজন্ম, ভৌগোলিক অবস্থান ও সামাজিক শ্রেণির পার্থক্যের কারণে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজ অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।
মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য, কঠিন পরিবেশে কাজ করেও এসব শ্রমজীবী মানুষ দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
তিনি বলেন, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রভাব দৃশ্যমান।
রূপা হক আরও বলেন, একসময় দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশিদের নিয়ে তাদের পরিচয় সংকট বা দুই সংস্কৃতির মাঝে আটকে থাকার মতো ধারণা প্রচলিত ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলেছে।
তার ভাষ্য, এখন একজন গর্বিত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সদস্য হতে পারেন। তিনি নিজেও এমন একটি নির্বাচনী এলাকা থেকে চারবার নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার বাংলাদেশি নন।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের পেশাগত বৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করে রূপা হক বলেন, সবাই রেস্তোরাঁয় কাজ করেন—এমন ধারণা সঠিক নয়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে চিকিৎসক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের পাশাপাশি চতুর্থ প্রজন্মও এগিয়ে আসছে।
‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিয়েছেন। এতে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনটি ৫ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:২৪ অপরাহ্ণ