হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর টোলপ্লাজার পূর্ব ও পশ্চিম পাশে থাকা দুটি বাইপাস সড়ক প্রায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধ। সংস্কারের অভাবে সড়ক দুটি এখন শেওলা, কাদা ও জংলায় ঢেকে গেছে। ফলে মহাসড়কের ওপর চাপ কমাতে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস দুটি কোনো কাজেই আসছে না। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের টোলপ্লাজা দিয়ে চলাচল করছে ছোট যানবাহন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে বাইপাস সড়ক দুটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও ফাটল দেখা দেয়। সংস্কারের জন্য সড়ক দুটি বন্ধ করা হয়। এরপর আর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে সড়ক দুটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
বাইপাস দুটি দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, টমটম, ভ্যান, ঠেলাগাড়ি ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন চলাচল করত। সড়ক দুটি সচল থাকলে এসব যানবাহন টোলপ্লাজা এড়িয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারত এবং মহাসড়কের যানজটও কমত।
সরেজমিন দেখা যায়, দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশে আগাছা ও জঙ্গল গজিয়েছে। কোথাও কোথাও কাদা জমে আছে। ফলে ছোট যানবাহনগুলো বাধ্য হয়ে মূল মহাসড়ক ব্যবহার করছে।
টোলপ্লাজার পাশের ব্যবসায়ী মাসুদ মৃধা বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে বাইপাস দুটি বন্ধ। ছোট যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছে। দ্রুত সড়ক দুটি সংস্কার করে চালু করা প্রয়োজন।
অটোরিকশাচালক গিয়াস উদ্দিন বলেন, বাইপাস বন্ধ থাকায় টোলপ্লাজা দিয়ে মহাসড়ক পার হতে হয়। এতে একদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অন্যদিকে বাড়তি টোল দিতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুটি সংস্কার না করায় দুর্ভোগ বেড়েছে।
নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মীর সাব্বির আহমদ বলেন, বাইপাস দুটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অধীনে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়া সত্ত্বেও কেন সংস্কার করা হচ্ছে না, তা তাঁর জানা নেই।
হবিগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, সড়কগুলো মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পের আওতায় চলে গেছে, এ কারণে সংস্কার করা হচ্ছে না। তবে পাঁচ বছর ধরে বন্ধ থাকার কারণ জানতে ফাইলপত্র দেখতে হবে। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:০০ পূর্বাহ্ণ