কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে রতনসহ ৯১ জন কারাগারে

কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

কুমিল্লা মহানগরীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আলোচিত গ্যাং লিডার ইমরান হোসেন ওরফে রতনসহ ৩৭০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই শেষে ২৭৯ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৯১ জনকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, রতন নগরীর ছোটরা এলাকার মফিজাবাদ কলোনির বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’ নামে একটি গ্রুপ পরিচালনা করে আসছেন। পুলিশের দাবি, ওই গ্রুপে ছাত্র, টোকাই ও খেটে খাওয়া মানুষসহ অন্তত ৪০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, নগরীর ধর্মসাগর, ঈদগাহ, ফৌজদারি মোড় ও আদালত এলাকায় চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং ভাড়ায় জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের সঙ্গে গ্রুপটির সদস্যরা জড়িত। মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, রতনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় নয়টি মামলা রয়েছে। একই অভিযানে তাঁর সহযোগী সাইফুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একই থানায় বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়া ‘ক্রাইম সেটাপ’ গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতা মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ এবং রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও থানায় মামলা রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২২ সালে কুমিল্লা নগর উদ্যানের সামনের সড়কে এক কিশোর হত্যার ঘটনায় রতনের নাম আসে। পরবর্তী সময়ে নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন পক্ষের সংঘর্ষ ও অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায়ও তাঁর নাম আলোচনায় আসে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ছেলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাঁচ দফার অভিযানে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম চার দফায় ১ হাজার ৬৭২ জন এবং পঞ্চম দফায় ৩৭০ জন আটক হন।

এদিকে সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক মিছিল এবং পরে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের এক নেতার সঙ্গে রতনের কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিও নিয়ে কুমিল্লায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন