খানাখন্দে বেহাল আতাইকুলা-ডেমরা সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

পাবনা সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

 

সংস্কারের অভাবে পাবনার আতাইকুলা-ডেমরা আঞ্চলিক সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। এতে সাঁথিয়া, ফরিদপুর ও আতাইকুলা এলাকার প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন। বাড়ছে দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে যানবাহন; পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে নির্মিত এ আঞ্চলিক সড়কটি প্রায় সাত বছর আগে সর্বশেষ সংস্কার করা হয়। তখন প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। সংস্কারের পর কয়েক বছর সড়কটি চলাচলের উপযোগী থাকলেও গত দুই থেকে তিন বছরে আবারও বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, তিন থানার মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার যানবাহনের জন্যও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী তেল ডিপোর গাড়ি এ সড়ক ব্যবহার করে নাটোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় যায়। শাহজাদপুর ও আতাইকুলা হাটের ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সড়কটির বেহাল দশার কারণে ধুলাউড়ি হাটসহ বিভিন্ন বাজারে কৃষিপণ্য পরিবহনে ভোগান্তি বাড়ছে। ভ্যান, অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। পাশাপাশি গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হওয়ায় চালকদের মেরামত খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ভাড়াতেও।

ফরিদপুরের ডেমরা এলাকার কৃষক মো. হানিফ বলেন, এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি। সড়কটির মাধ্যমে বিভিন্ন বাজারে কৃষিপণ্য নিতে হয়। কিন্তু বড় বড় গর্তের কারণে পণ্যবোঝাই যান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

কলেজ শিক্ষার্থী রিপন, আরমান ও তৌহিদা জামান জানান, প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে তাদের কলেজ ও পাবনা শহরে যাতায়াত করতে হয়। জেলার জেনারেল হাসপাতালেও যেতে হয় এ পথ ধরে। বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বড় গর্তগুলোতে আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হয়।

অটোরিকশাচালক বিপ্লব বলেন, কয়েক দিন আগে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় গর্তে পড়ে তার অটোরিকশা বিকল হয়ে যায়। পরে ঋণ নিয়ে গাড়িটি মেরামত করতে হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে বলে জানান তিনি।

সিএনজিচালকদের কয়েকজন জানান, জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে তারা সড়কটিতে গাড়ি চালাচ্ছেন। আগে দুই মাসে একবার গাড়িতে গ্রিজ করতে হলেও এখন মাসে দুইবার করতে হচ্ছে। গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি ও অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের কারণে আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পাওয়া গেলে সড়কটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন