দুই পায়ের শক্তি হারিয়েছেন এক দশক আগে। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার সক্ষমতা না থাকলেও শিক্ষার আলো ছড়ানোর কাজে থেমে যাননি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বামুন্দী বালিয়াকান্দী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্ব লাল মণ্ডল। হুইলচেয়ারই এখন তার চলাচলের একমাত্র বাহন। বিদ্যালয়ে যাতায়াত থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান—সব ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
জানা গেছে, জন্মের পর সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন অপূর্ব লাল মণ্ডল। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার পায়ে সামান্য সমস্যা দেখা দেয়। সেই সমস্যা নিয়েই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেন। ১৯৯৯ সালে নিজ এলাকার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।
এর কয়েক বছর পর ধীরে ধীরে তার দুই পায়ের শক্তি কমতে থাকে। একপর্যায়ে দুই পায়ে ভর করে হাঁটার সক্ষমতা হারান। গত ১০ বছর ধরে হুইলচেয়ারই তার একমাত্র চলাচলের মাধ্যম।
অপূর্ব লাল মণ্ডল বলেন, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে শিক্ষার্থীরাই তার চলার সঙ্গী। কখনো কারও কাঁধে ভর করে, আবার কখনো একাধিক শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় তিনি স্কুলে যান। নানা কষ্ট ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও শিক্ষকতাকে শুধু পেশা হিসেবে দেখেন না তিনি; শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়াকেই জীবনের নেশা হিসেবে নিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব উল্লাহ বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই তিনি অপূর্ব স্যারের কাছে পড়ছেন। আগে বড় ক্লাসের শিক্ষার্থীরা স্যারকে হুইলচেয়ারে করে স্কুলে নিয়ে আসতেন। এখন তারা নিজেরাই সেই দায়িত্ব পালন করছেন। শারীরিক কষ্টের মধ্যেও স্যার খুব সুন্দরভাবে ক্লাস নেন এবং শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জোগান।
সহকারী শিক্ষক ফরিদ শেখ বলেন, অপূর্ব লাল মণ্ডল তার বাল্যবন্ধু। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কলেজ পর্যন্ত তারা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন এবং কাছাকাছি সময়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। বন্ধুর শারীরিক অসুস্থতার কষ্ট থাকলেও শেষ দিন পর্যন্ত তার পাশে থাকতে চান তিনি।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, শুধু বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া নয়, শ্রেণিকক্ষেও অপূর্ব লালের দায়িত্ব পালনে কোনো ক্লান্তি দেখা যায় না। তিনি যত্ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ বুঝিয়ে দেন। তবে একটি আধুনিক হুইলচেয়ার পেলে তার যাতায়াত ও পাঠদান আরও সহজ হবে।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

ফরিদপুর সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:৪২ অপরাহ্ণ