মিয়ানমারের সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:৫৭ অপরাহ্ণ

মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’ (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে বর্তমানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাতেও পড়ছে।

বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক সহায়তা দিন দিন কমে আসছে। এতে বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা আগের মতো উচ্চ পর্যায়ে অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের পথ সহজ হবে।

আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আইআইএমএমের দল কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দুই শতাধিক ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এসব তথ্য ও প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আইআইএমএমের তদন্ত শুধু ২০১৭ সালের ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘাতে বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সীমান্তে মিয়ানমার অংশে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার কারণে এসব মাইন সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে চলে আসায় কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে আইআইএমএম। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াবে এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন