বরগুনার আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে বারবার বাঁধের ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নদীতে বিলীন হচ্ছে। এতে বাঁধসংলগ্ন বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও বাঁধটির প্রয়োজনীয় সংস্কার হয়নি। ফলে সামান্য জোয়ারেই পানি বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দিয়ে শহরের দিকে প্রবেশ করছে। কোথাও কোথাও ব্লক সরে গিয়ে নদীর দিকে ভাঙন এগিয়ে যাচ্ছে।
বাঁধসংলগ্ন এক ব্যবসায়ী বলেন, জোয়ারের পানিতে বারবার ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনের জায়গাটুকুও নেই। প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয়—কখন না প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন। শুধু সাময়িক মেরামত নয়, ভবিষ্যৎ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাঁধটির টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণেরও দাবি রয়েছে।
এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. আবদুল হান্নান প্রধান বলেন, বিষয়টি অধস্তন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তদারকি করবেন। বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রমাণিত হলে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতা এবং একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে জলোচ্ছ্বাস বা ঘূর্ণিঝড়ের সময় পৌর শহরের জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:০৮ অপরাহ্ণ