নির্মাণের এক বছরেই ঢাকা বাইপাসে ধস, ২৫০ মিটারজুড়ে ফাটল

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:৪৫ অপরাহ্ণ

গাজীপুর-জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ঢাকা বাইপাস এশিয়ান হাইওয়ের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। উপজেলার সিংলাব-পাকুন্দা এলাকায় একটি আন্ডারপাসের পূর্ব পাশে প্রায় ২৫০ মিটারজুড়ে সড়ক দেবে গিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

শনিবার সকালে স্থানীয়দের নজরে আসে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল। পরে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে ব্যস্ত মহাসড়কটিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকা পড়েন শত শত যানবাহনের চালক ও যাত্রী।

খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা বাইপাস সড়ক চার লেন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) সৈয়দ আসলাম আলী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ঘুরে দেখে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

স্থানীয়রা জানান, সড়কের বিভিন্ন স্থানে আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে দীর্ঘ ফাটল তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচের স্তর উঠে নিচের মাটি ও নির্মাণসামগ্রী বেরিয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সড়কের একটি অংশ নিচের দিকে দেবে গেছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সড়কের এমন অবস্থায় নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, নির্মাণের সময় সড়কের দুই পাশ থেকে মাটি কেটে নেওয়া, অপর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে সড়ক দুর্বল হয়ে থাকতে পারে। কেউ কেউ রাতের আঁধারে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় মো. আলামিন বলেন, নির্মাণকাজের সময় সড়কে ব্যবহৃত খোয়া ও বিটুমিনের মান নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছিলেন। আরেক বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, সড়ক নির্মাণের সময় দুই পাশ থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় পার্শ্ববর্তী অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তবে নির্মাণকাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ নাকচ করেছেন প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ আসলাম আলী। তিনি বলেন, টানা দুই-তিন দিনের বৃষ্টিতে সড়কের নিচের মাটি নরম হয়ে যায়। এর ওপর দিয়ে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল করায় নরম মাটি সরে গিয়ে সড়কের ওই অংশ বসে ফাটল তৈরি হয়েছে।

সৈয়দ আসলাম আলী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সচল করতে প্রকল্পের বেসরকারি অংশীদার ‘ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড’-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প বা ডাইভারশন সড়ক তৈরির কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ড্রিলিং করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, আপাতত সড়ক সচল করার পাশাপাশি ধস ও ফাটলের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন