আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর জাপানি স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। প্রতিবেদনে বাবুর জাপানি স্ত্রীর নাম মিনাকো কাওয়ারাজাকি এবং বড় মেয়ের নাম নীনা কাওয়ারাজাকি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ছোট মেয়ের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট যুক্তরাজ্যে জাপানি নাগরিক মিনাকোকে বিয়ে করেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। একই বছরের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে তাদের প্রথম কন্যা নীনার জন্ম হয়। পরে ঢাকার জাপান দূতাবাস থেকে ২০০৭ সালে তাদের বিয়ের সনদও ইস্যু করা হয়।
বাবু ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মারা যান। তার মৃত্যুর ১৪ বছর পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর বড় মেয়ে নীনা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে (ইউসিবি) বাবুর নামে থাকা এক কোটি টাকার এফডিআর নিয়ে চিঠি দেন। ওই নথির সূত্র ধরেই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
তবে বাবুর নির্বাচনী এলাকা আনোয়ারা-কর্ণফুলীর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, তার দ্বিতীয় বিয়ে ও ওই পরিবারের বিষয়ে তারা আগে থেকেই জানতেন। তাদের ভাষ্য, মৃত্যুর আগেই বাবু স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পদের অংশ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় বাবু তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের তথ্য উল্লেখ করেননি কেন। তবে বিএনপির স্থানীয় এক নেতা বিষয়টিকে বাবুর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যাপার হিসেবে উল্লেখ করে অতীতের বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সভাপতি এবং পরে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। ব্যবসায়ী হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম চেম্বার, এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর ১৪ বছর পর তার জাপানি স্ত্রী ও সন্তানদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:১৮ অপরাহ্ণ