মিষ্টি খেয়েও ৩৫ কেজি ওজন কমিয়েছেন, জানালেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাল্লিকা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:১৯ অপরাহ্ণ

ওজন কমানোর কথা ভাবলেই অনেকের মনে প্রথমে আসে কঠোর ডায়েট, পছন্দের খাবার বাদ দেওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়ামের চাপ। কিন্তু কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাল্লিকা ফতেহপুরিয়ার অভিজ্ঞতা বলছে, ওজন কমানোর জন্য পছন্দের সব খাবার জীবন থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া জরুরি নয়।

মাল্লিকার দাবি, ৯০ কেজি থেকে ৫৫ কেজিতে ওজন কমানোর যাত্রায় তিনি মিষ্টিসহ নিজের পছন্দের খাবার পুরোপুরি বাদ দেননি। বরং খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, ক্যালরির হিসাব এবং দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা যায়—এমন খাদ্যাভ্যাস তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে নিজের ওজন কমানোর অভিজ্ঞতা থেকে ৩৫টি শিক্ষা শেয়ার করেছেন মাল্লিকা। তাঁর এসব অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমস।

পছন্দের খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই

মাল্লিকার মতে, স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই বিস্বাদ বা একঘেয়ে খাবার নয়। নিজের পছন্দের খাবারও তুলনামূলক কম ক্যালরিতে তৈরি করা সম্ভব। তাই ওজন কমানোর পরিকল্পনার সঙ্গে পছন্দের খাবারকে মানিয়ে নেওয়াই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

তাঁর সবচেয়ে আলোচিত বক্তব্যগুলোর একটি হলো—প্রতিদিন মিষ্টি খেলেও ওজন কমানো সম্ভব। তবে এটিকে কোনো সার্বজনীন নিয়ম হিসেবে নয়, নিজের অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরিবর্তে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন মাল্লিকা। রান্নায় তেল ও মাখনের ব্যবহার কমানো, মাপার চামচ দিয়ে উপকরণ ব্যবহার করা এবং খাবারের ওজন মাপার যন্ত্রের সাহায্যে পরিমাণ নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবারের তুলনায় কম ক্যালরির বিকল্প বেছে নেওয়া এবং নিজের পছন্দের ১০ থেকে ১৫টি খাবার স্বাস্থ্যকরভাবে তৈরির অভ্যাস গড়ে তোলার কথাও বলেছেন।

ক্যালরি সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি

মাল্লিকার মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ক্যালরি ডেফিসিট সম্পর্কে ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ শরীর যে পরিমাণ ক্যালরি খরচ করে, তার তুলনায় কম ক্যালরি গ্রহণ করলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় পুষ্টি উপাদানের তথ্য পড়ে দেখার অভ্যাস করতেও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কোনো খাবারের গায়ে ‘হেলদি’ বা স্বাস্থ্যকর লেখা থাকলেই সেটি ওজন কমানোর জন্য উপকারী হবে—এমন ধারণা ঠিক নয় বলে মনে করেন মাল্লিকা।

তাঁর মতে, খাবারকে সবসময় ‘ভালো’ ও ‘খারাপ’—এই দুই ভাগে ভাগ করার প্রয়োজন নেই। একইভাবে আলাদা করে ‘চিট মিল’ রাখতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই।

কখনো পরিকল্পনার বাইরে কোনো খাবার খেয়ে ফেললে কয়েক মাসের পরিশ্রম নষ্ট হয়ে যায় না। এমন পরিস্থিতিতে পরের খাবার থেকেই আবার স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

ওজন কমানো শুধু শরীরের পরিবর্তন নয়

মাল্লিকার অভিজ্ঞতায়, ওজন কমানোর সময় আশপাশের মানুষের বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও মতামতের মুখোমুখি হতে হয়। বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সবাই যে নিজের সিদ্ধান্ত বুঝবেন, এমনটাও নয়।

কেউ শরীরকে বেশি মোটা মনে করতে পারেন, আবার কেউ মনে করতে পারেন অতিরিক্ত রোগা হয়ে গেছেন। তবে অন্যের পছন্দ অনুযায়ী শরীরের আকৃতি পরিবর্তন করাই ওজন কমানোর লক্ষ্য হওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন মাল্লিকা।

তাঁর মতে, নিজের শরীর নিয়ে সুস্থ ও ভালো অনুভব করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওজন কমানোর যাত্রা শুধু শারীরিক পরিবর্তনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানসিক ও আবেগগত পরিবর্তনও জড়িয়ে থাকে।

ব্যায়ামে অনুপ্রেরণার চেয়ে নিয়মিত থাকা গুরুত্বপূর্ণ

ব্যায়াম নিয়েও মাল্লিকার পরামর্শ বেশ বাস্তবধর্মী। তাঁর মতে, প্রতিদিন শরীরচর্চা করার অনুপ্রেরণা থাকবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তাই অনুপ্রেরণার ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত থাকার অভ্যাস তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যায়াম করতে ভালোবাসতেই হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই বলেও মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, কিছুটা শারীরিক পরিশ্রম একেবারে কোনো শারীরিক কর্মকাণ্ড না করার চেয়ে ভালো।

সময় কম থাকলে হাঁটাহাঁটিকেও শরীরচর্চার অংশ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। নিয়মিত হাঁটার গুরুত্বও অবহেলা করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।

শরীরচর্চা শুরু করতে নতুন পোশাক, জুতা বা দামি সরঞ্জাম কেনাও জরুরি নয়। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন মাল্লিকা।

ওজন কমানোর সময় আগের বড় মাপের পোশাকগুলোও সঙ্গে সঙ্গে ফেলে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আয়নায় নিজেকে নিয়ে অনুভূতি বদলাতে পারে

ওজন কমানোর পুরো যাত্রায় নিজের চেহারা নিয়ে অনুভূতি সবসময় একই থাকবে না বলেও জানিয়েছেন মাল্লিকা। কোনো দিন আয়নায় নিজেকে ভালো লাগতে পারে, আবার অন্য কোনো দিন নিজের চেহারা নিয়ে খারাপ লাগতে পারে। তাঁর মতে, এটি স্বাভাবিক।

তাঁর অভিজ্ঞতায়, ওজন কমানোর পর শুধু শরীরের আকৃতিই বদলায় না; নিজের শরীর এবং নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তিত হতে পারে।

এই পরিবর্তনের পথে নিজের অগ্রগতি নিয়ে গর্ববোধ করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

তবে মাল্লিকা যে ৩৫টি শিক্ষা শেয়ার করেছেন, সেগুলো তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। এগুলো সবার জন্য প্রযোজ্য চিকিৎসা বা পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ নয়। একজন মানুষের ওজন কমানোর পরিকল্পনা তাঁর বয়স, স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন