পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ নিয়ে প্রশ্ন, অসুস্থ ৩৬ শিক্ষার্থী

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:৫১ পূর্বাহ্ণ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা প্যাকেটজাত দুধ পান করে ৩৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মাথা ঘোরা, পেটব্যথা, খিঁচুনি ও শারীরিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের ‘আরডি’ ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত দুধ বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় শিক্ষকরা কয়েকটি প্যাকেট ফুটো এবং কিছু প্যাকেটের দুধ দইয়ের মতো জমাট অবস্থায় দেখতে পান।

বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানিয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ওই দুধ পান না করানোর পরামর্শ দেন। পরে মনোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ে এসে নিজে দুধ পান করে পরীক্ষা করেন এবং দুধে সমস্যা নেই বলে জানান। এরপর শিক্ষার্থীদের দুধ পান করতে বলা হয়।

দুধ পান করার প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে একে একে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির হোসেন জানায়, দুধ পান করার পর তার মাথা ও পেটব্যথা শুরু হয়। দাঁড়িয়ে থাকতে না পারায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, দুধ বিতরণের সময় কয়েকটি প্যাকেট ফুটো এবং দুধ দইয়ের মতো জমাট অবস্থায় দেখা যায়। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দুধ বিতরণ না করার অনুরোধ করা হলেও পরে দুধ পান করতে বলা হয়। এরপরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. বিমন দেবনাথ বলেন, হাসপাতালে ১৬–১৭ জন শিক্ষার্থী এসেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং অনেকেই ভালো আছে। সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছেন। দুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন