দেয়ালে ফাটল, ছাদ চুইয়ে পানি; ৪৬ বছরেও হয়নি নতুন ভবন

জয়পুরহাট সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ

প্রতিষ্ঠার ৪৬ বছর পার হলেও নতুন ভবন নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি জয়পুরহাট নার্সারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান। দেয়ালে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা, আর বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ায় আতঙ্কের মধ্যে পাঠদান করছেন শিক্ষকরা। একই কারণে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে উদ্বেগে থাকেন অভিভাবকেরাও।

সরেজমিনে দেখা যায়, জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব প্রায় ২০০ গজ এবং সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় মাত্র ৩০ গজ দূরে। কাছেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা পরিষদ। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর এত কাছে হলেও বিদ্যালয়টির পাঁচ কক্ষের একতলা ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

৪ অক্টোবর দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচটি কক্ষের একটি তালাবদ্ধ। সেখানে পাঠদান হয় না। একটি কক্ষে শিক্ষকদের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলে। বাকি তিনটি কক্ষে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠদান চলছে। ভবনের কয়েকটি দেয়ালে ফাটল দেখা গেছে। কোথাও পলেস্তারা খসে ইট বেরিয়ে পড়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মাত্র একটি শৌচাগার।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় বর্তমান ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হলেও এরপর এক যুগ পেরিয়ে গেছে। এখনো নির্মাণ হয়নি নতুন ভবন। ৮৩ শতক জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ছয়জন শিক্ষক ও ১০২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়ে গেছে।

বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী জানায়, শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে ফাটল থাকায় তারা সব সময় ভয়ভীতির মধ্যে থাকে। অভিভাবক ইমতিয়াজ ও শিউলি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সন্তানদের পাঠিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় থাকেন। ভবনের কোনো অংশ ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইশরাত জাহান বলেন, ভবনের পরিবেশ ভালো না হওয়ায় দিন দিন শিক্ষার্থী কমছে। গ্রামের অনেক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ হলেও জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন হচ্ছে না। একটি মাত্র শৌচাগার থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

প্রধান শিক্ষক লাইলা আকতার জাহান বলেন, ২০১৮ সালে বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ভবনটির এমন দুরবস্থা দেখে আসছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। ভবনের দুরবস্থার কারণে চলতি বছর ১৫ থেকে ২০ জন অভিভাবক সন্তানকে ভর্তি করাতে এসে পরিবেশ দেখে অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে গেছেন। আগে ভর্তি থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীও অন্য বিদ্যালয়ে চলে গেছে। বিদ্যালয় চলাকালে ভূমিকম্প হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৫) আওতায় বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কয়েক মাস আগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেছের আলী ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম ইকবাল।

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকরা দ্রুত প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করে বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন