নিষেধাজ্ঞার আগে ইলিশের বাজারে আগুন

চাঁদপুর সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:২৩ অপরাহ্ণ

মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ মুহূর্তে ইলিশ কেনাবেচায় জমে উঠেছে চাঁদপুরের বিভিন্ন মাছঘাট। এতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে ইলিশের দাম।

চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন আড়তে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, দুই সপ্তাহ আগে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বহরিয়া মাছঘাটে জেলেদের নিয়ে আসা ইলিশের বেশিরভাগই ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজনের। ছোট আকারের ইলিশ প্রতি হালি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকায়।

বহরিয়া এলাকার জেলে হান্নান গাজী বলেন, মৌসুমের শেষ সময়ে ইলিশের আমদানি কিছুটা বেড়েছে। তবে আগস্টে ইলিশের আমদানি খুবই কম ছিল। বর্তমানে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে কোনোভাবে জেলেদের খরচ উঠছে।

বহরিয়া মাছঘাটের আড়তদার মো. ইদ্রিস আলী বলেন, শেষ সময়ে ইলিশের আমদানি কিছুটা বাড়লেও চাহিদার তুলনায় তা কম। চাঁদপুরের ইলিশের সুনাম থাকায় এখানকার মাছের চাহিদা বেশি।

হরিণা মাছঘাটের পাইকারি বিক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর ছৈয়াল জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে এ ঘাটে প্রতিদিন প্রায় ২০০ মণ ইলিশ এসেছে। তবে গত কয়েকদিন আমদানি কিছুটা কমেছে। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা ইলিশ কিনতে এলেও চাহিদা অনুযায়ী মাছ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। গত সপ্তাহে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

হানারচর ইউনিয়নের জেলে নজরুল ইসলাম বলেন, এক নৌকায় ১০ জন কাজ করেন। রাতে নদীতে গিয়ে সকালে ঘাটে ফিরেছেন। যে পরিমাণ ইলিশ পেয়েছেন, তাতে খরচ উঠেছে। তবে জালে ময়লা-আবর্জনা আটকে যাওয়ায় সেদিন আর নদীতে নামতে পারেননি। নিষেধাজ্ঞার আগে আরও এক-দুই দিন মাছ ধরার সুযোগ হতে পারে বলে জানান তিনি।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবেবরাত সরকার বলেন, গত সপ্তাহে কিছুটা ইলিশ পাওয়া গেলেও চলতি সপ্তাহে আমদানি কমেছে। চাহিদার তুলনায় ইলিশ কম থাকায় দামও কমছে না। আমদানি বাড়লে দামও কমে আসবে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, শেষ মুহূর্তে ইলিশের আমদানি কিছুটা বেড়েছে। হাজার হাজার জেলে নদীতে ইলিশ ধরছেন এবং কম-বেশি মাছ পাচ্ছেন। এবার ইলিশের গড় আকারও তুলনামূলক বড়।

তিনি বলেন, আগামী ২২ দিনের প্রজনন মৌসুম সফল হলে এর সুফল জেলেরাই পাবেন। মা ইলিশ রক্ষায় ইতোমধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন