হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর পরগনার পাহাড়ি টিলাগুলো একসময় ছিল অনেকটাই জনমানবশূন্য। এখন সেই টিলাজুড়ে দেখা মিলছে সারি সারি কমলা ও মাল্টার বাগান। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ফল চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় তিন উদ্যোক্তা। তাঁদের সাফল্য দেখে অন্যরাও টিলায় মাল্টা ও কমলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
গজনাইপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের কামাল উদ্দিন জুবেদ ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজ বাড়ির একটি টিলায় প্রায় ৩০০টি মাল্টা ও ৫০টি কমলা গাছ দিয়ে চাষ শুরু করেন। শুরুতে নবীগঞ্জ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন তিনি। চলতি বছর তিন থেকে চার লাখ টাকার ফল বিক্রি করে সেই ঋণ পরিশোধ করেছেন। ভালো ফলন পাওয়ায় আরও দুটি বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
কায়স্থগ্রাম মাহমুদপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল খয়ের কায়েদ ২০১৪ সালে শখের বশে বাড়ির পাশে পাঁচ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করেন। উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে গড়ে তোলা বাগানে বর্তমানে প্রায় ৫০০টি গাছ রয়েছে। চলতি মৌসুমে তিনি সাত থেকে আট লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন। এতে তাঁর লাভ হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা।
অন্যদিকে, প্রবাসী দিলওয়ার উদ্দীন বাড়ির আঙিনায় প্রায় ৩০০টি মাল্টার গাছ লাগিয়ে সফল হয়েছেন। এখন তিনি আরও বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষের উদ্যোগ নিচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, দিনারপুরের এসব বাগানের সুনাম হবিগঞ্জ ও সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বাগান দেখতে এবং সরাসরি গাছের ফল কিনতে আসছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বাগান থেকে তাজা মাল্টা সংগ্রহ করছেন।
উদ্যোক্তাদের সাফল্য দেখে এলাকার অনেক যুবক বেকারত্ব দূর করে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় মাল্টা ও কমলা চাষে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে এসব বাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন স্থানীয় শ্রমিকরা।
নবীগঞ্জ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার ধনঞ্জয় দেবনাথ বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে জুবেদ স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং পুরো ঋণ পরিশোধ করেছেন। এমন সাফল্য ব্যাংকের জন্যও আনন্দের।
নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফিন হাসান বলেন, দিনারপুরের মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা, লেবু ও কমলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কামাল উদ্দিন জুবেদের পরীক্ষামূলক কমলা চাষও সফল হয়েছে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দিনাজপুর সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ