অনাবাদি জমিতে আখ চাষে সাফল্য, লাভের আশায় কৃষক

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামের কৃষক আবদুল খালেক হাওলাদার পতিত জমিতে আখ চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন। খালের পাড়ের পরিত্যক্ত ২৫ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করে এখন খরচ তুলে লাভের আশা করছেন তিনি। তার এ উদ্যোগে স্থানীয় অন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করে দেশি জাতের আখ চাষ শুরু করেন আবদুল খালেক। দীর্ঘ ১১ মাস পরিচর্যার পর তার আখ এখন কাটার উপযোগী হয়েছে। এতদিন অনাবাদি পড়ে থাকা জমিটি পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে তিনি উৎপাদনশীল করে তুলেছেন।

কৃষক আবদুল খালেক হাওলাদার বলেন, ‘অনেকেই এই জমিতে চাষ করতে আগ্রহ দেখায়নি। আমি ঝুঁকি নিয়ে আখ চাষ শুরু করি। এখন ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি, খরচ উঠে ভালো লাভ হবে।’ বাজারে আখের চাহিদা থাকায় বিক্রি নিয়েও আশাবাদী তিনি।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর দুমকি উপজেলায় ৩ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজন কৃষক আখ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। বিশেষ করে অনাবাদি জমি কাজে লাগিয়ে আখ চাষের প্রবণতা বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন বলেন, দুমকির মাটি ও আবহাওয়া আখ চাষের জন্য উপযোগী। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে এ ফসলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আখ লাভজনক একটি ফসল। তাই ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে আখের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, আবদুল খালেকের উদ্যোগ তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। অনেকেই নিজেদের পতিত জমিতে আখ চাষের পরিকল্পনা করছেন। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি অনাবাদি জমিও উৎপাদনের আওতায় আসবে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক প্রশিক্ষণ, আধুনিক চাষপদ্ধতি ও বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দুমকিতে আখ চাষের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে পতিত জমি কাজে লাগিয়ে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন