রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের নতুন বাজারসংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প। জলাবদ্ধতা, বেহাল রাস্তা ও চারপাশে ঝোপঝাড় বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের অধিকাংশ পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। ৫২টি ঘরের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১৫টি পরিবার কোনোভাবে বসবাস করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের অধিকাংশ ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ঘরগুলোর চারপাশে লতাপাতা ও ঝোপঝাড় গজিয়ে পুরো এলাকা অনেকটা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ঘরের বারান্দা, উঠান ও বাথরুমের সামনেও পানি জমে আছে। এতে বসবাসরত পরিবারগুলোর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একদিন বৃষ্টি হলে অনেক সময় কয়েক দিন ধরে পানি জমে থাকে। পানি কমে গেলে দুর্গন্ধ ছড়ায়। কাদায় চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। জলাবদ্ধতার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে। এসব কারণে অনেক পরিবার আশ্রয়ণ প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।
প্রকল্পের বাসিন্দা মিনু আক্তার বলেন, বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। একদিন বৃষ্টি হলে কয়েক দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। ঘর, বারান্দা এমনকি বাথরুমেও পানি ঢুকে পড়ে। প্রতিদিন পানি সেচতে হয়। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে বাধ্য হয়ে এখানেই বসবাস করছেন তিনি।
আরেক বাসিন্দা জিয়াসমিন আক্তার বলেন, বর্ষা মৌসুমে আশ্রয়ণের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। কয়েক দিন আগে তাঁর আট মাসের শিশুসন্তান উঠানের পানিতে পড়ে যায়। পানি কমে গেলে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং রাস্তায় হাঁটুসমান কাদা তৈরি হয়। পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনায় নিরাপত্তাহীনতাও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়হীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। পরিত্যক্ত ঘর ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করায় সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এসব পরিত্যক্ত ঘরে মাদকসেবীদের আনাগোনাও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, প্রকল্পের বাসিন্দাদের দুর্দশার বিষয়টি তিনি দেখেছেন। সেখানে বসবাসের পরিবেশ বর্তমানে ভালো নয়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি নির্মাণের সময় মাটি ভরাট করা প্রয়োজন ছিল। এখন পুরো এলাকা মাটি দিয়ে ভরাট করলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে। তাই বিকল্প হিসেবে চারপাশে পাকা ড্রেন নির্মাণ করে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে অসহায় পরিবারগুলো নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

ফরিদপুর সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ