ফলন ও বাজারদর ভালো পাওয়ায় লাভজনক হয়ে উঠেছে কাঁচামরিচ চাষ। ফলে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে দিন দিন বাড়ছে কাঁচামরিচের আবাদ। অন্য ফসলের তুলনায় খরচ কম ও পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় ধানের পরিবর্তে মরিচ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে মরিচের ফলনও ভালো হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় বাড়তি লাভের আশা করছেন চাষিরা। কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
শস্যভান্ডারখ্যাত দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হিলির বিভিন্ন মাঠে এখন বাণিজ্যিকভাবে কাঁচামরিচের আবাদ হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও এ অঞ্চলে এ ধরনের চিত্র খুব একটা দেখা যেত না।
হিলির আলিহাট ইউনিয়নের মুর্শিদপুর গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান বগুড়ার কাহালু এলাকায় গিয়ে কাঁচামরিচের চাষ দেখে আগ্রহী হন। সেখানকার কৃষকদের কাছ থেকে পরামর্শ ও বীজ সংগ্রহ করে এলাকায় মরিচ চাষ শুরু করেন। প্রথম দিকে অল্প জমিতে আবাদ করে ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় বর্তমানে তিন বিঘা জমিতে কাঁচামরিচ চাষ করছেন তিনি।
আতিয়ার রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধান চাষ করেও তেমন লাভ হয়নি। অনেক সময় উৎপাদন খরচই ওঠেনি। কিন্তু কাঁচামরিচে খরচের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি লাভের সুযোগ রয়েছে। এবার তিন বিঘা জমিতে মরিচ চাষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন। জমিতে থাকা মরিচ থেকে আরও প্রায় আড়াই লাখ টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, বিদেশ থেকে কাঁচামরিচ আমদানি করা হলে বাজারদর কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে দাম ভালো থাকলে মরিচ চাষে ভালো লাভ করা সম্ভব। তার মরিচ চাষ দেখে এলাকার আরও অনেক কৃষক এ আবাদে আগ্রহী হয়েছেন।
কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আগে তিনি রিকশা-ভ্যান চালানোর পাশাপাশি কৃষিকাজ করতেন। গ্রামের এক কৃষকের মরিচ চাষ দেখে ফলন ও লাভের বিষয়ে আগ্রহী হন। পরে জমি বর্গা নিয়ে নিজেও কাঁচামরিচ চাষ শুরু করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।
কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আতিয়ার রহমান বগুড়া থেকে বীজ এনে প্রথমবার মরিচ চাষ করে লাভবান হন। ধান চাষে লোকসান হওয়ায় তার দেখাদেখি গ্রামের অন্য কৃষকরাও মরিচ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। বর্তমানে বাজারে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, ধান চাষ করে তেমন লাভ হচ্ছে না। তাই আগামী বছর থেকে ধানের আবাদ কমিয়ে কাঁচামরিচ চাষ করার চিন্তা করছেন। আশপাশের জমিতে মরিচের ভালো ফলন দেখে তিনিও এ আবাদে আগ্রহী হয়েছেন।
কাঁচামরিচের আবাদ বাড়ায় স্থানীয় কৃষিশ্রমিকদেরও কাজের সুযোগ বেড়েছে। শ্রমিক তারিকুল ইসলাম বলেন, আগে এ এলাকায় মূলত ধানের জমিতে কাজ করতেন তারা। এখন মরিচের জমিতে গাছ বাঁধা, আগাছা পরিষ্কার, গাছের গোড়ায় মাটি দেওয়া ও অন্যান্য পরিচর্যার কাজ করছেন। এতে তাদের আয়ও বেড়েছে।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় কৃষকরা কাঁচামরিচ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আগে উপজেলায় ২ থেকে ৩ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৮ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এমনকি অনেকে জমির পাশাপাশি টবেও মরিচ চাষ করছেন।
তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এভাবে কৃষকদের আগ্রহ বাড়তে থাকলে আগামীতে হাকিমপুরে কাঁচামরিচের আবাদ আরও বাড়বে এবং কৃষকরাও লাভবান হবেন।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

দিনাজপুর সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ