পর্দায় একসময় ছিলেন ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’। এবার বাস্তবের প্রশাসনিক কাঠামোতেও মন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন সেই মিঠুন চক্রবর্তী। অভিনয়জগতের ‘মহাগুরু’ এবার যুক্ত হলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে—তাও ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমমর্যাদার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে।
অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পদে তাকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিয়োগটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
সিনেমার পর্দা থেকে প্রশাসনের অন্দরমহলে
মিঠুনের এই নতুন অধ্যায় অবশ্য একেবারে আকস্মিক নয়। সম্প্রতি উত্তর কলকাতার মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মিঠুনকে রাজ্যের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার পর এবার এলো সরকারি বিজ্ঞপ্তি। কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের আইএএস সেল থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে মিঠুনকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এতদিন যিনি মূলত চলচ্চিত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ছিলেন, এবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্য সরকারের সাংস্কৃতিক প্রশাসনের সঙ্গেও যুক্ত হলেন।
দায়িত্বটা ঠিক কী?
মিঠুনকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি; তিনি থাকছেন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে। তবে তার পদমর্যাদা হবে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমতুল্য। তার নির্দিষ্ট দায়িত্বের পরিধি পরবর্তী সময়ে আরও স্পষ্ট হবে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা। তবে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় রাজ্যের চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি, শিল্প ও বিনোদনজগতের বিভিন্ন বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মিঠুন বাংলায় চলচ্চিত্র নির্মাণ বাড়ানো এবং স্থানীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে উৎসাহ দেওয়ার বিষয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলায় শুটিং করা চলচ্চিত্রের জন্য ৩০ শতাংশ ভর্তুকির প্রস্তাবও তিনি সরকারের কাছে তুলেছিলেন।
পাঁচ দশকের অভিনয়, এবার নতুন মঞ্চ
মিঠুন চক্রবর্তীর অভিনয়জীবন পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের। বাংলা ও হিন্দি—দুই চলচ্চিত্রেই নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। ১৯৭৬ সালে ‘মৃগয়া’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক। প্রথম সিনেমাতেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ তাকে পৌঁছে দেয় ভারতজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তার শিখরে। ‘সুরক্ষা’, ‘পেয়ার ঝুকতা নেহি’, ‘অগ্নিপথ’, ‘গোলমাল থ্রি’, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’সহ অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। বাংলা সিনেমাতেও তার অবদান দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনীতিতেও বদলেছে পথ
অভিনয়ের পাশাপাশি মিঠুনের রাজনৈতিক যাত্রাও কম আলোচিত নয়। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি এবং রাজ্যসভায় সংসদ সদস্যও হন। পরে ২০১৬ সালে রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন নির্বাচনে দলের হয়ে প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখা গেছে তাকে। এবার সেই রাজনৈতিক পথচলার সঙ্গে যুক্ত হলো আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক দায়িত্বও।
‘মহাগুরু’র সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
মিঠুনের জনপ্রিয়তা শুধু সিনেমার পর্দায় সীমাবদ্ধ নয়। বাংলার মানুষের কাছে তিনি দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। সেই জনপ্রিয়তা ও দীর্ঘ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাকেই এবার সরকারি কাজে ব্যবহার করতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিশেষ করে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেওয়া, বাংলায় সিনেমার শুটিং বাড়ানো এবং রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিসরকে নতুনভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার।
একসময় পর্দায় ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’ হয়ে দর্শকদের বিনোদন দিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। এবার অবশ্য কোনো সিনেমার গল্প নয়—বাস্তবেই মন্ত্রীর মর্যাদা নিয়ে সরকারি দায়িত্বে নামছেন সেই ‘মহাগুরু’।
কালের আলো/জেএন

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:০২ অপরাহ্ণ