রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:০৫ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নোয়াখালীপাড়া ও রঙ্গিখালী পাহাড়ি এলাকায় ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের অধীনে এসব ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এসব এলাকায় নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটে। সেনাক্যাম্প স্থাপন করা হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর ও বাইরে মাদক, অস্ত্র, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান চলছে। এসব অভিযানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একজন ডিআইজি নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং অন্যান্য বাহিনীও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আনাগোনা বড় সমস্যা। পাশাপাশি সাধারণ অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও এপিবিএন নিয়মিত কাজ করছে।

তিনি জানান, সম্প্রতি এপিবিএনের আইনগত কাঠামোয় তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে। বাহিনীটিতে প্রায় ৪০০ সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ায় ক্যাম্পের অপরাধ তদন্তে এপিবিএনের কর্মকর্তারা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফেন্সিং ও কাঁটাতার পুনর্নির্মাণ করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন এবং কন্ট্রোল ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

যুদ্ধ বা সীমান্তে জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) নির্ধারিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলাদা উচ্চপর্যায়ের কমিটি দেখছে। আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে তারা বিশ্বাস করেন।

তিনি বলেন, সমস্যাটি সমাধানে সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সময় অনেক অতিবাহিত হওয়ায় সংকট আরও জটিল হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে রোহিঙ্গাদের জন্য পৃথক কারাগার স্থাপনের কোনো প্রস্তাব তার জানা নেই বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি ও কারাগার

বৈঠক শেষে জঙ্গল সলিমপুর নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারি জমি ও পাহাড়কে সুশাসনের আওতায় আনতে সেখানে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।

জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য জমি দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্য ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বায়েজিদ লিংক রোডের পাশে নতুন কারাগারটি স্থানান্তর করা হবে।

এ ছাড়া অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারীদের পুনর্বাসন এবং এলাকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুর একসময় সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য ছিল। এলাকাটিকে সুশাসন ও শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র‍্যাব ও এপিবিএনের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জায়গা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন