জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ নতুন দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ৮:৪৯ অপরাহ্ণ

চাকরির বাজারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তিনটি বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনার পাশাপাশি এসব কোর্সে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কর্মদক্ষতা এবং পেশাগত নৈতিকতার মতো বিষয় শেখানো হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে সেতুবন্ধন: গবেষণায় উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং শিল্পায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করলেই বর্তমান চাকরির বাজারে সফল হওয়া নিশ্চিত নয়। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, চাকরির প্রস্তুতি, যোগাযোগ দক্ষতা, পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতার বিষয়েও শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে হবে।

এ লক্ষ্যেই আগামী জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ICT & AI (Information and Communication Technology and Artificial Intelligence), Employability Skill এবং Ethics and Professionalism—এই তিনটি বিশেষ কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের Higher Education Acceleration & Transformation (HEAT) প্রকল্পের অধীনে কোর্সগুলো চালু করা হবে।

ড. মামুন বলেন, শিক্ষাখাতের আধুনিকায়নের পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, Industry-Academia Collaboration এবং Internationalization of Education-এর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষার্থীরা দেশীয় চাকরির বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও নিজেদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারবেন। বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।

এর মাধ্যমে বৈশ্বিক কর্মবাজারে বাংলাদেশের তরুণদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকারের বিভিন্ন কর্মমুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং শিল্পখাতের চাহিদার সমন্বয় ঘটানোই এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে তৈরি না করে চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে Innovation Hub, Incubation Centre, Startup Ecosystem এবং শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন অধ্যাপক ড. মামুন। তিনি জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ‘UDYOG—Upazila-Driven Youth Opportunity for Growth’ কর্মসূচি চালু করেছে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও বাজারসংযোগের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা তাঁদের ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পেতে পারেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো জামানত ছাড়াই এ অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকারের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটেও তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান ইউজিসি সদস্য। তিনি বলেন, প্রযুক্তিখাতে প্রতি বছর দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড প্রস্তাব করা হয়েছে।

অধ্যাপক ড. মামুন বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত করা নয়; পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন দক্ষতা অর্জন, নিজের কর্মসংস্থান তৈরি এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে—এমনভাবে তরুণদের গড়ে তুলতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন