ফুটবলের বাইরেও মেসির রাজত্ব, যেভাবে গড়েছেন বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:০৬ অপরাহ্ণ

ফুটবল মাঠে অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত লিওনেল মেসি। তবে তাঁর সাফল্য শুধু সবুজ গালিচায় সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞাপন, বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি, আবাসন ও হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য। আন্তর্জাতিক ব্যবসা সাময়িকী ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার এই তারকা ফুটবলারের নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

ফোর্বসের তথ্য অনুসারে, ক্যারিয়ারে মেসির মোট আয় প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এসেছে ক্লাব ও জাতীয় দলের বেতন এবং খেলার চুক্তি থেকে। বাকি প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার এসেছে বিজ্ঞাপন, স্মারকসামগ্রী ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড থেকে।

অন্যদিকে, সম্পদ মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান সেলিব্রিটি নেট-ওয়ার্থের হিসাবে মেসির নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। হিসাবের পার্থক্য থাকলেও দুই প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নেই তাঁর সম্পদের পরিমাণ বিলিয়ন ডলারের ঘরে।

বিজ্ঞাপন থেকে বছরে ৭ কোটি ডলার

ফোর্বসের ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় মেসির অবস্থান তৃতীয়। সাময়িকীটির হিসাব অনুযায়ী, গত ১২ মাসে তাঁর মোট আয় প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন ও ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকে এসেছে আনুমানিক ৭০ মিলিয়ন ডলার।

মেসির বাণিজ্যিক আয়ের অন্যতম বড় ভিত্তি ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আজীবন চুক্তি করেন তিনি। এ ছাড়া মাস্টারকার্ড, লে’জ ও মিশেলব আল্ট্রার মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব রয়েছে।

মাঠের বাইরের এসব চুক্তিতে মেসির জনপ্রিয়তা ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তুলনামূলক শান্ত ও সংযত ব্যক্তিত্বের কারণে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছেও তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

আবাসন ও হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ

বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি আবাসন ও আতিথেয়তা খাতেও বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন মেসি। ২০২৪ সালে তিনি ‘এদিফিসিও রোস্তোয়ার সোসিমি’ নামে একটি রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট চালু করেন। প্রতিষ্ঠানটি স্পেনের পোর্টফোলিও স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন করছে।

ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ট্রাস্টটির বাজারমূল্য প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার। তবে সেলিব্রিটি নেট-ওয়ার্থের হিসাবে এর মূল্য প্রায় ২৩২ মিলিয়ন ডলার।

এই ব্যবসার আওতায় রয়েছে স্পেন ও অ্যান্ডোরায় অবস্থিত মিম হোটেলস চেইনের ছয়টি বিলাসবহুল বুটিক হোটেলসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সম্পত্তি। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে ফুটবল থেকে অর্জিত অর্থকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পদে রূপান্তর করছেন মেসি।

বিলাসবহুল বাড়িতেও বড় বিনিয়োগ

ব্যক্তিগত আবাসনেও বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছেন এই ফুটবল তারকা। তাঁর সম্পদের তালিকায় রয়েছে স্পেনের বার্সেলোনার কাছে কাস্তেলদেফেলসে প্রায় ২ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি, যুক্তরাষ্ট্রের সানি আইলস বিচে ৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের কনডোমিনিয়াম এবং ফোর্ট লডারডেলে ১০ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের সমুদ্রতীরবর্তী বাড়ি।

সব মিলিয়ে মেসির আর্থিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে ফুটবল থেকে পাওয়া বিপুল পারিশ্রমিকের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড অংশীদারত্ব ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ। মাঠের পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দিলেও সেই জনপ্রিয়তাকে দীর্ঘস্থায়ী সম্পদে রূপান্তর করাই তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অন্যতম ভিত্তি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন