নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতে জোর ড.মঈন খানের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:২৮ অপরাহ্ণ

রাজনীতির মূল লক্ষ্য ক্ষমতা অর্জন নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা—এমন অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, গণতন্ত্রকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। নির্বাচনে অর্থের প্রভাব কমিয়ে জনসেবার আদর্শকে প্রাধান্য দেওয়াও এ ক্ষেত্রে জরুরি।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনের অফিসকক্ষে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের সঙ্গে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে খান ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়।

  • নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পক্ষে মত
  • দলীয় বিভাজন ও পারস্পরিক বিদ্বেষ কমিয়ে জনকল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

রাজনীতির কেন্দ্রে থাকুক জনসেবা
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হতে পারা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি একই আদর্শে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় কিংবা আপ্যায়নের মাধ্যমে ভোট চাওয়ার পরিবর্তে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধির যেমন জনগণের কাছে জবাবদিহি রয়েছে, তেমনি সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচনের দায়িত্বও জনগণের। নির্বাচনে জয়ী হতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা পরিবর্তন করতে হবে। জনগণের সেবা করার আদর্শ ছাড়া রাজনীতি সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে না।

তৃণমূলের গণতন্ত্রই জাতীয় ব্যবস্থার ভিত্তি
স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে জাতীয় পর্যায়েও গণতন্ত্র কার্যকর করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং পাঁচটি স্তরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন তাঁর সামনে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ নির্বাচনের আয়োজনের পাশাপাশি ভোটারের স্বাধীন সিদ্ধান্ত ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার সুরক্ষিত রাখাও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

নির্দলীয় নির্বাচনে বিভাজন কমানোর প্রত্যাশা
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে আয়োজনের পক্ষে মত দেন ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, এ ধরনের নির্বাচন স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় বিভাজন ও পারস্পরিক বিদ্বেষ কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। এই বক্তব্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেবল জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা ও সামাজিক সংহতি জোরদারের ক্ষেত্র হিসেবেও দেখার গুরুত্ব উঠে আসে।

উন্নয়ন কার্যক্রমে সরকার-এনজিও সমন্বয়ের তাগিদ
দারিদ্র্য বিমোচন, জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশের এনজিওগুলোর অবদানের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকার ও এনজিওগুলোর লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। এ জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে হবে।

দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার বলেন, এনজিও পরিচালনায় দাতাদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না থেকে নিজস্ব সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বজায় রাখা প্রয়োজন। অর্থায়ন কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা বাড়াতে হবে। সরকারি খাসজমি ও পুকুরসহ স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. অভিনয় চন্দ্র সাহা, খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা খাতুন, বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং খান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন