কুমিল্লার কিশোরী জান্নাতুন তাজমীন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের কর্মচারী রাজু চৌধুরী। পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে রাজুর সঙ্গে দেখা করতে কক্সবাজার গিয়েছিল তাজমীন। তবে হত্যাকাণ্ডে রাজুর সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৪ আগস্ট বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায় তাজমীন। পরে কুমিল্লায় ফিরে আবার কক্সবাজারে যায় সে। এ সময় মাকে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা জানিয়েছিল কিশোরী।
কক্সবাজারের কক্স প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ জানান, গত ৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে তাজমীন ও রাজু তাদের কাউন্টারে এসে কুমিল্লাগামী বাসের টিকিট কাটে। পরদিন দুপুর ১২টার দিকে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যায়।
আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বাসটি কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানে পৌঁছায়। সিসিটিভি ফুটেজে ওই স্থান থেকে তাজমীনের নামার দৃশ্য দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর ফুটেজটি সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পুলিশ চাইলে তা সরবরাহ করা হবে বলে জানান তিনি।
মায়ের সঙ্গে শেষ কথা
তাজমীনের মা কেয়া খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন তাজমীন এক বান্ধবীর সঙ্গে থাকার কথা জানিয়েছিল। মেয়ের কাছে বান্ধবীর নাম ও তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চেয়েও তিনি তা জানতে পারেননি।
মেয়ের বন্ধুবান্ধব নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন কেয়া খাতুন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি বলে তিনি জানিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডে একজনের সম্পৃক্ততার কথা পুলিশের
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাজমীনকে হত্যার ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ারবাজারের হোটেল নূরজাহান থেকে কুমিল্লা শহরের রেইসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমীন। পরে সুমন তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন বলে পুলিশের অভিযোগ।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে তাজমীনের মায়ের সন্দেহের তালিকায় থাকা এক বান্ধবীর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পৃক্ততা এখনো পাওয়া যায়নি বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পুরো ঘটনার সঙ্গে কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিশ্চিত করতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা প্রয়োজন।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:২৬ পূর্বাহ্ণ