ভুয়া বিলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, কারাগারের জেলার বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:৩৪ অপরাহ্ণ

সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিল দাখিল ও বিধিবহির্ভূতভাবে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৩ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী প্রজ্ঞাপন দুটি জারি করেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আব্দুল ফাত্তাহ ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলা কারাগারের জেলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে কারাগারের খোরাকি রেশন খাতে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

কারা অধিদপ্তরের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির সরেজমিন তদন্তে ২০২৩-২০২৪ ও ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৭টি ভুয়া বিল অনুমোদনের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো ‘বাবা মায়ের দোয়া’, ‘নূর স্টোর’ ও ‘শুভ স-মিল’।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় জেলার, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারারক্ষী মো. জাফর মাহামুদ শাকিলের যোগসাজশের বিষয়টি উঠে এসেছে। আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে নয়টি চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে আব্দুল ফাত্তাহ ৪০ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কারাগারে বন্দির সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও খোরাকি রেশন খাতে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের চেষ্টা এবং আর্থিক নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়। এসব ঘটনায় ২০২৫ সালে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শের ভিত্তিতে তাঁকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

ভুয়া বিলের অভিযোগে রাসায়নিক পরীক্ষকের বাধ্যতামূলক অবসর

অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলা আদালতের সমন ও সাক্ষ্য প্রদানের সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে আদালতে সাক্ষ্য না দিয়েও ভুয়া বিলের বিপরীতে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ভ্রমণকারী কর্মকর্তা, নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা ও প্রত্যয়নপত্রের স্থানে ভিন্ন ভিন্ন স্বাক্ষর ব্যবহার করা হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষকের সিল ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তে উঠে আসে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দুলাল কৃষ্ণ সাহা ২০০০ সালের ২৮ জুন রাসায়নিক পরীক্ষক পদে ষষ্ঠ গ্রেডে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে বিমানযোগে ভ্রমণের প্রাধিকারভুক্ত না হয়েও তিনি ২৩ বছরে শতাধিকবার বিভিন্ন স্থানে বিমানে যাতায়াতের ভ্রমণ বিল দাখিল করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তদন্তে বিধিবহির্ভূতভাবে সরকারি কোষাগার থেকে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৭ টাকা উত্তোলনের বিষয়টি উঠে আসে। এ ঘটনায় ২০২৫ সালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শের ভিত্তিতে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন