পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ‘ভায়োলেন্স’ ছাড়লেন অধরা খান

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:২৪ অপরাহ্ণ
জায়েদ খানের সঙ্গে ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমায় অভিনয়ের কথা ছিল চিত্রনায়িকা অধরা খানের। তবে পরিচালকের অপেশাদার আচরণ ও যথাযথ যোগাযোগের অভাবের অভিযোগ তুলে শুটিং শুরুর আগেই সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীর দাবি, সিনেমাটির জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে হলিউডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগ হারিয়েছেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান অধরা। একই সঙ্গে সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকে তার পেশাগত জীবনে তৈরি হওয়া বিভিন্ন জটিলতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

পরিচালকের আচরণে হতাশ অধরা

অধরার ভাষ্য, অনেক আগেই ‘ভায়োলেন্স’ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বিষয়টি নিয়ে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছিল তাকে। এ কারণে শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান প্রকাশ্যে জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।

অভিনেত্রীর অভিযোগ, পরিচালকের অপেশাদার আচরণ এবং যোগাযোগের ঘাটতি তাকে সিনেমাটি থেকে সরে যেতে বাধ্য করেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানোর পরও সিনেমাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগ হারানোর দাবি

এত দিন নীরব থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে অধরা জানিয়েছেন, তার বক্তব্যের কারণে সিনেমাটির শুটিং কিংবা এর সঙ্গে যুক্ত সহশিল্পী ও কলাকুশলীদের কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক, তা চাননি। তবে নীরব থাকার এই সময়টায় তাকে আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি তার।

অধরার অভিযোগ, ‘ভায়োলেন্স’-এর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে হলিউডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজের সুযোগ গ্রহণ করতে পারেননি তিনি। চুক্তিগত গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতা বা নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্টের (এনডিএ) কারণে সেসব প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকাশ করাও সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

শুটিংয়ের আগের দিন যোগাযোগের অভিযোগ

সিনেমাটির শুটিংয়ের সময়সূচি এবং যোগাযোগের ধরন নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন অধরা। তার দাবি, শুটিং শুরুর মাত্র এক দিন আগে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। পেশাদার একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এমন যোগাযোগের ধরনকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এ ছাড়া সিনেমাটির জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে অন্য কাজের সময়সূচি ও পেশাগত প্রতিশ্রুতি ঠিক রাখতেও সমস্যায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন অধরা। এ কারণে তার কাস্টিং ডিরেক্টর ও এজেন্সির কাছ থেকেও সতর্কবার্তা পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

বাংলা সিনেমার প্রতি ভালোবাসা থেকেই যুক্ত হয়েছিলেন

বাংলা সিনেমার প্রতি ভালোবাসা থেকেই ‘ভায়োলেন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন অধরা খান। তবে পুরো অভিজ্ঞতাকে এখন নিজের ক্যারিয়ারের বড় ভুল হিসেবে দেখছেন তিনি।

অভিনেত্রীর মতে, কোনো প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পেশাদারি, যোগাযোগের ধরন এবং পারস্পরিক সম্মানের বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার ভাষ্য, কিছু অভিজ্ঞতা মানুষকে ভবিষ্যতে আরও সচেতনভাবে এগিয়ে যেতে শেখায়।

পেশাগত সম্পর্কে পারস্পরিক সম্মান ও পেশাদারি কখনো একতরফা হওয়া উচিত নয় বলেও নিজের পোস্টে উল্লেখ করেছেন অধরা। একজন শিল্পী হিসেবে নিজের সময়, শ্রম ও আত্মসম্মানের মূল্য দেওয়াও তার দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।

তবে পরিচালকের বিরুদ্ধে অধরার তোলা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিচালকের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরিচালকের বক্তব্য জানা গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

কালের আলো/এসএ

 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন