সংরক্ষিত আসনে পুরুষ, দাঁড়িয়ে থাকেন নারী-প্রবীণরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:৩৮ অপরাহ্ণ

রাজধানী ঢাকার লোকাল বাসে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ নাগরিকদের যাতায়াত ক্রমেই দুর্ভোগ ও ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে। সংরক্ষিত আসনে বসার সুযোগ না পাওয়া, বাসে ওঠানামার সময় অসতর্কতা এবং সহকারী কর্মীর অভাবে প্রতিদিনই নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন তাঁরা। যাত্রীসেবার চেয়ে মুনাফাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় নগর পরিবহনে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআর) এবং শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) যৌথ পর্যবেক্ষণে এসব চিত্র উঠে এসেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পর্যবেক্ষণের তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এক মাস ধরে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন রুটের অর্ধশতাধিক বাস পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এ সময় যাত্রী, পরিবহনশ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে নগর পরিবহনের নানা অনিয়ম ও যাত্রীদের ভোগান্তির চিত্র পাওয়া গেছে।

সংরক্ষিত আসনেও বসার সুযোগ নেই

পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য প্রতিটি বাসে নয়টি আসন সংরক্ষিত রাখার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিছু বাসে এ বিষয়ে নির্দেশনার কথা লেখা থাকলেও অধিকাংশ বাসে তা উল্লেখ নেই। সংগঠন দুটির দাবি, কোনো বাসেই নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না।

যাত্রীভর্তি লোকাল বাসে সংরক্ষিত আসনে পুরুষ যাত্রীদের বসে থাকতে দেখা গেছে। অন্যদিকে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে তাঁদের শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি অস্বস্তি ও নিরাপত্তাঝুঁকিও বাড়ছে।

৮০ শতাংশ বাসে নেই হেলপার

ঢাকার লোকাল বাসে চলাচলের আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে সহকারী কর্মী বা হেলপার না থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। পর্যবেক্ষণে দাবি করা হয়েছে, এ ধরনের প্রায় ৮০ শতাংশ বাসে হেলপার নেই।

সংগঠন দুটির ভাষ্য অনুযায়ী, একজন চালক মালিকের কাছ থেকে দিনচুক্তিতে বাস ভাড়া নেন। পরে একজন কন্ডাক্টর নিয়ে সড়কে বাস চালান। দিন শেষে মালিকের পাওনা পরিশোধ করে অবশিষ্ট টাকা চালক ও কন্ডাক্টর ভাগ করে নেন। খরচ কমানোর জন্য অনেক ক্ষেত্রে হেলপার রাখা হয় না।

ঝুঁকি নিয়ে বাসে ওঠানামা

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কন্ডাক্টররা বিভিন্ন স্টপেজ ও সড়কের যত্রতত্র বাস থামিয়ে দ্রুত যাত্রী ওঠানামা করান। একই সময়ে তাঁদের বাসের ভেতরে ভাড়া আদায়ের কাজও করতে হয়। ফলে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে বাসে উঠতে ও নামতে হয়।

বিশেষ করে বাস থেকে নামার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি থাকে। সংগঠন দুটির দাবি, এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রায় প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে।

অনিয়ম বন্ধে চার দফা সুপারিশ

নগর পরিবহনে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে চারটি সুপারিশ করেছে জাতীয় কমিটি ও এসসিআরএফ।

সুপারিশগুলো হলো—

১. নগর পরিবহনের সব বাসে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীসহ নির্ধারিত শ্রেণির যাত্রীদের জন্য নয়টি আসন সংরক্ষণের নির্দেশনা কার্যকর করা।

২. প্রতিটি বাসে চালক ও কন্ডাক্টরের পাশাপাশি একজন হেলপার নিয়োগ নিশ্চিত করা।

৩. চালক কিংবা কন্ডাক্টরের কাছে দিনচুক্তিতে বাস ভাড়া দেওয়ার প্রথা বন্ধ করা।

৪. সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো কঠোরভাবে প্রতিহত করা।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, ঢাকা শহরের লোকাল বাসগুলো নিয়মনীতি উপেক্ষা করে চলাচল করছে। বাসমালিকদের যাত্রীসেবার চেয়ে মুনাফার দিকে নজর বেশি।

এসব অনিয়ম প্রতিরোধে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানান তিনি।

যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংরক্ষিত আসনের ব্যবহার, বাসে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ এবং নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামার নিয়ম কার্যকর করা জরুরি বলে মনে করছে সংগঠন দুটি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন