‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না’—ট্রাইব্যুনালে সেই ভিডিও

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:৩৮ অপরাহ্ণ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী ইমাম হাসান ওরফে তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একটি ভিডিও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়েছে। ভিডিওতে পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইনকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মুঠোফোনে একটি ভিডিও দেখানোর সময় বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না’।

সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনালে ভিডিওটি দেখানো হয়। এদিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তাইম হত্যার ঘটনা তুলে ধরে তাঁদের যুক্তি উপস্থাপন করেন।

যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য

চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়। শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে কথাও বলেননি। তারপরও পুলিশের সদস্যরা তাইমকে গুলি করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ।

তিনি আরও বলেন, তাইমকে একজন ব্যক্তি উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন। ওই ব্যক্তিকেও পুলিশ গুলি করে। পরে প্রাণভয়ে তিনি তাইমকে ফেলে দৌড়ে চলে যান।

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কে ঘটনাস্থলে পুলিশের গুলিবর্ষণ এবং আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের চেষ্টার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রদর্শিত ভিডিওটি এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে নিহত হন কলেজছাত্র তাইম

ইমাম হাসান রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের উপপরিদর্শক মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজীনগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা ওভারব্রিজের কাছে পুলিশের গুলিতে ইমাম হাসান নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি করা হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলাটিতে এখন যুক্তিতর্ক চলছে। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যে তাইমকে গুলি করার ঘটনা এবং তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টাকারী ব্যক্তির ওপর গুলির অভিযোগ বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

মামলায় আসামি সাবেক ১০ পুলিশ কর্মকর্তা

তাইম হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী জোনের সাবেক উপকমিশনার ইকবাল হোসাইন, অতিরিক্ত উপকমিশনার শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান, থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন এবং উপপরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ উজ জামান ও মো. শাহাদাত আলীকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামিদের মধ্যে আবুল হাসান ও শাহাদাত আলী গ্রেপ্তার রয়েছেন।

মামলার যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত বক্তব্য ও ভিডিওর ভিত্তিতে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। তবে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ট্রাইব্যুনাল।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন