পাঁচ করবর্ষে ৬৬৬ কোটি টাকা: গ্রামীণ কল্যাণের রিট খারিজের রায় প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:৪৬ অপরাহ্ণ

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চেয়ারম্যান থাকা গ্রামীণ কল্যাণের কাছে পাঁচ করবর্ষের জন্য ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর দাবি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানটির করা পৃথক দুটি রিট খারিজের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায় দুটির পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে একটি রায় ১৫ পৃষ্ঠার এবং অন্যটি ৩২ পৃষ্ঠার।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দেন।

পাঁচ করবর্ষের কর দাবি নিয়ে বিরোধ

গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য কর বাবদ অর্থ দাবি করে এনবিআর। পুনর্মূল্যায়নের পর এসব করবর্ষের বিপরীতে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি প্রদেয় করের দাবি জানানো হয়।

এনবিআরের এই দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ। প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল খারিজ করে রায় দেন। সোমবার প্রকাশিত হলো সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি।

আগের রায় প্রত্যাহার করে নতুন বেঞ্চে শুনানি

গ্রামীণ কল্যাণের করা রিট নিয়ে এর আগেও হাইকোর্টে রায় হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ এ বিষয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন।

পরে একই বেঞ্চ সেই রায় প্রত্যাহার করে নেন। কারণ হিসেবে জানানো হয়, বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক একসময় এসব মামলায় সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এ পরিস্থিতিতে আগের রায় প্রত্যাহার করে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। এরপর মামলাগুলো শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চে মামলাগুলোর শুনানি হয়।

৬৬৬ কোটি টাকার বেশি দাবি করেছিল এনবিআর

২০২৪ সালে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছিল, পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর দাবি করেছে এনবিআর। কর পুনর্মূল্যায়নের পর নির্ধারিত এই অর্থের দাবির বৈধতা নিয়েই প্রতিষ্ঠানটির রিট আবেদনগুলো করা হয়েছিল।

সর্বশেষ হাইকোর্টের রুল খারিজের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের মধ্য দিয়ে মামলাগুলোর বিচারিক সিদ্ধান্তের বিস্তারিত প্রকাশ্যে এসেছে। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, করের অর্থ পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে সম্পন্ন হয়েছে—এমন কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন