সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইউএনডিপির সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়াতে চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:১৩ অপরাহ্ণ

সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আরও সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। একই সঙ্গে নাগরিককেন্দ্রিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন, সরকারি সেবা সহজীকরণ এবং প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সংস্থাটির সহায়তা কামনা করেছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগসের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে সহযোগিতা চান উপদেষ্টা। বৈঠকে বাংলাদেশের সরকারি খাতের সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের জন্য সহজ ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

সুশাসন ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব

বৈঠকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়ে ইউএনডিপির সহযোগিতা চাওয়া হয়। প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে সেবা আরও সহজলভ্য করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কার্যকারিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ইউএনডিপির সহযোগিতা চেয়েছেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। সরকারের এসব অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটির অভিজ্ঞতা ও অংশীদারত্ব কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সহযোগিতা কামনা

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাগরিককেন্দ্রিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং সরকারি সেবা সহজীকরণে ইউএনডিপির সহযোগিতা চেয়েছেন জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা।

নাগরিকদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারি সেবা আরও কার্যকর ও সহজ করার উদ্যোগের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) সঙ্গে ইউএনডিপির অংশীদারত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

সরকারি খাতের সংস্কারে অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে ইউএনডিপির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন। বিশেষ করে সরকারি খাতের সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিককেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জিআইইউর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং নীতিমালা ও সেবার বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ ইউএনডিপির

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ইউএনডিপির অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

অন্যদিকে, সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত এবং সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউএনডিপি। তবে বৈঠকে আলোচিত উদ্যোগগুলোর বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা নতুন কোনো প্রকল্পের বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যারা

বৈঠকে ইউএনডিপির উপ-আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দায়ারত্নে, সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক, সিনিয়র গভর্ন্যান্স স্পেশালিস্ট তানভীর মাহমুদ এবং সংস্থাটির ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস, পলিসিস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ (এসআইপিএস) প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের মহাপরিচালক ড. দেলোয়ার হোসেন বৈঠকে অংশ নেন।

সুশাসন, প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নাগরিককেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে ইউএনডিপির সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন