গ্রেপ্তারের আগে বিদেশ যেতে চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গুলশান আরা। বিদেশযাত্রায় তাঁকে যেন বাধা দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে আদালতের অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি। তবে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আদালতকে জানানোর পর আবেদনটি আর চালাতে চাননি তাঁর আইনজীবীরা। পরে আদালত আবেদনটি ‘নট প্রেস’ হিসেবে খারিজ করে দেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। আদালত সূত্রে জানা যায়, বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে গ্রেপ্তারের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় আবেদনটি আর এগিয়ে নেওয়া হয়নি।
- গ্রেপ্তারের তথ্য আদালতকে জানানোর পর আবেদন খারিজ
- সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় ডিবির হাতে গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গুলশান আরা মূলত বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে তাঁকে যেন বাধা দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। আবেদনটি ওই বেঞ্চে আইটেম নম্বর চার হিসেবে ছিল এবং আদেশের জন্য নির্ধারিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, গুলশান আরার পক্ষে আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছেন, এর মধ্যে একটি পরবর্তী ঘটনা ঘটেছে। সেটি হলো, একটি সুনির্দিষ্ট মামলায় লেফটেন্যান্ট (অব.) গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে হেফাজতে আছেন। এ কারণে তাঁরা মামলাটি আর চালাতে চান না। পরে তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত মামলাটি ‘নট প্রেস’ করে দিয়েছেন, অর্থাৎ আবেদনটি খারিজ করেছেন।
কী অভিযোগে গ্রেপ্তার?
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গুলশান আরাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানো, উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার এবং অবৈধ অর্থায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলার আসামি গুলশান আরার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ কুমার বড়ুয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
রিট খারিজের তাৎপর্য কী?
গুলশান আরার রিট আবেদনটি খারিজ হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল গ্রেপ্তারের পর মামলার পরিস্থিতি পরিবর্তন। তাঁর আইনজীবীরা আদালতকে জানান, তিনি হেফাজতে থাকায় বিদেশযাত্রা-সংক্রান্ত আবেদনটি আর চালানোর প্রয়োজন নেই। সে পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি ‘নট প্রেস’ করেন।
আইনগতভাবে ‘নট প্রেস’ বলতে সাধারণত আবেদনকারী বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে আবেদনটি আর এগিয়ে না নেওয়ার বিষয়টি বোঝায়। এ ধরনের আদেশকে মামলার মূল অভিযোগের বিষয়ে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যায় না। একইভাবে, বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে করা রিট খারিজ হওয়াও সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি মামলার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে না।
ঘটনাটি একই সঙ্গে দুটি পৃথক আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় সামনে এনেছে—একদিকে বিদেশযাত্রায় বাধা না দেওয়ার আবেদন, অন্যদিকে ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার ও হেফাজত। প্রথম আবেদনটির নিষ্পত্তি হয়েছে আইনজীবীদের আর না এগোনোর সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে; অপরদিকে গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও অভিযোগের বিচার পৃথক বিষয়। এখন সংশ্লিষ্ট মামলায় অভিযোগের ভিত্তি, তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নজর থাকবে।
কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:৪৯ অপরাহ্ণ