নিউক্যাসলকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে ২৫ বছরের অপেক্ষা ঘোচাল কভেন্ট্রি

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:১৫ অপরাহ্ণ
ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের পরামর্শ, পা মাটিতেই রাখতে হবে। কিন্তু নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৪-১ গোলে হারানোর পর কভেন্ট্রি সিটির খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস ধরে রাখা কি এতটাই সহজ? ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের মাঠে দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এমন এক জয় পেয়েছে দলটি, যা সমর্থকদের মনে গেঁথে থাকবে বহুদিন।

প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচের আগে অবনমন অঞ্চলে থাকা কভেন্ট্রির সামনে প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল ঐতিহ্যবাহী ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড। সাম্প্রতিক অবস্থান ও দলীয় শক্তির বিচারে নিউক্যাসল এগিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে তার কোনো ছাপ দেখা যায়নি। বরং শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে কভেন্ট্রি। শেষ পর্যন্ত চার গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয় ল্যাম্পার্ডের দল।

২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান

কভেন্ট্রি অ্যারেনায় প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে এটি কভেন্ট্রি সিটির জন্য বিশেষ এক রাত। নিজেদের মাঠে ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ লিগে সর্বশেষ জয়ের স্মৃতি ছিল ২৫ বছর আগের। ২০০১ সালে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের পর ঘরের মাঠে প্রিমিয়ার লিগে আর জয়ের দেখা পায়নি দলটি। সেই ম্যাচে জন হার্টসনের করা গোলই ছিল কভেন্ট্রির সমর্থকদের কাছে স্মরণীয়।

নিউক্যাসলের বিপক্ষে এবারের ম্যাচে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান শুধু জয় দিয়েই হয়নি, চার গোলের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে কভেন্ট্রি। ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাসী ফুটবল এবং গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা গ্যালারির দর্শকদের উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

কাকতালীয়ভাবে, কভেন্ট্রির ঘরের মাঠে প্রিমিয়ার লিগে সর্বশেষ জয়ের সময় সংগীতজগতে জনপ্রিয় ছিল সাবেক ‘স্পাইস গার্ল’ এমা বান্টনের গান ‘হোয়াট টুক ইউ সো লং?’। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিউক্যাসলের বিপক্ষে জয় পাওয়ায় গানটির শিরোনাম যেন নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। সেই গান হয়তো অনেকের স্মৃতিতে নেই, তবে এই জয় কভেন্ট্রির সমর্থকদের মনে দীর্ঘদিন জায়গা করে নেবে।

শুরুতেই এগিয়ে যায় কভেন্ট্রি

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই পেনাল্টি থেকে গোল করে কভেন্ট্রিকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার জ্যাক রুদোনি। তাঁর গোলের পর গ্যালারিতে উল্লাসে ফেটে পড়েন সমর্থকেরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিজেদের মাঠে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে গোল দেখার আনন্দও ছিল আলাদা।

প্রথম গোলের পর কভেন্ট্রি আক্রমণ চালিয়ে যায়। বিরতির পর ৪৮ মিনিটে সিদিকি চেরিফের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকেরা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা শুরু করে নিউক্যাসল। ৭০ মিনিটে বোটমানের গোলে ব্যবধান কমিয়ে কিছুটা আশা জাগায় অতিথিরা।

তবে নিউক্যাসলের সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের শেষ ভাগে আরও দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে কভেন্ট্রি। ৮১ ও ৮৬ মিনিটে পাওয়া গোল দুটি স্বাগতিকদের জয়কে আরও স্মরণীয় করে তোলে। ২০০০ সালের মে মাসে শেফিল্ড ওয়েডনেসডের বিপক্ষে ৪-১ গোলে জয়ের পর ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে এই প্রথম কোনো ম্যাচে চার গোল করল কভেন্ট্রি।

ল্যাম্পার্ডের চোখে পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স

ম্যাচ শেষে দলের খেলায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন কভেন্ট্রি কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। ইংল্যান্ডের সাবেক এই তারকা মিডফিল্ডারের মতে, দল যেভাবে খেলতে চায়, নিউক্যাসলের বিপক্ষে ঠিক সেভাবেই পারফর্ম করেছে খেলোয়াড়েরা।

ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘খুব সন্তুষ্টির। আমরা যেমন দল হতে চাই, ঠিক তেমন খেলেছি। পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স।’

তবে বড় জয়ের পরও খেলোয়াড়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ, একটি জয় দিয়ে পুরো মৌসুমের লক্ষ্য অর্জন হয়ে যায় না। সামনে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আরও ম্যাচ রয়েছে। ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘খেলোয়াড়দের জন্য অবশ্যই দারুণ এক অনুভূতি। পা মাটিতে রাখতে হবে। কারণ, আমাদের পরের ম্যাচটি (টটেনহাম) কঠিন এবং তার পরেরটিও সহজ হবে না।’

কোচের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, নিউক্যাসলের বিপক্ষে বড় জয়কে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপলক্ষ হিসেবে দেখলেও তিনি চান না খেলোয়াড়েরা আত্মতুষ্টিতে ভুগুক। বরং এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও পয়েন্ট অর্জন করতে চায় দলটি।

পয়েন্ট তালিকায় এগোল কভেন্ট্রি

নিউক্যাসলের বিপক্ষে জয়ের ফলে অবনমন অঞ্চল থেকে উঠে এসেছে কভেন্ট্রি সিটি। ছয় ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে দলটি এখন প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকার ১৪তম স্থানে। মৌসুমের শুরুতে কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা দলটির জন্য এই জয় তাই কেবল একটি বড় ব্যবধানের জয় নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোরও গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

ল্যাম্পার্ডের কোচিংয়ে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ গোল করা দল হিসেবে মৌসুম শেষ করেছিল কভেন্ট্রি। এবার প্রিমিয়ার লিগেও আক্রমণভাগের সেই কার্যকারিতা ধরে রাখার ইঙ্গিত মিলেছে। নিউক্যাসলের বিপক্ষে চারটি গোলই দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। একই সঙ্গে একাধিক খেলোয়াড়ের গোল পাওয়াও কোচের জন্য ইতিবাচক দিক।

বড় হারে চাপে নিউক্যাসল

অন্যদিকে কভেন্ট্রির কাছে ৪-১ গোলের হার নিউক্যাসল ইউনাইটেডের জন্য বড় ধাক্কা। বোর্নমাউথ ও চেলসির সঙ্গে যৌথভাবে চলতি লিগে সর্বোচ্চ গোল হজম করা দলের তালিকায় রয়েছে নিউক্যাসল। ছয় ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে দলটি আছে ১১তম স্থানে।

ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করেন নিউক্যাসল কোচ ম্যাথিয়াস জাইসলে। তাঁর মতে, লিগে নিজেদের ভুলের কারণেই এমন ফলের মুখোমুখি হতে হয়েছে দলকে। সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় তাঁদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।

জাইসলে বলেন, ‘মেনে নেওয়া কঠিন। লিগে এটা ভুলের শাস্তি। সমর্থকদের আরও ভালো ফলাফল প্রাপ্য ছিল, তাই তাদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।’

কভেন্ট্রির জন্য রাতটি ছিল দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে পাওয়া এক ঐতিহাসিক আনন্দের। আর নিউক্যাসলের জন্য এটি নিজেদের ভুলগুলো পর্যালোচনা করে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা। তবে ল্যাম্পার্ডের চাওয়া, বড় জয়ের উচ্ছ্বাসে ভেসে না গিয়ে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতিতে মনোযোগী থাকুক তাঁর দল।

কালের আলো/এসএ
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন