টানা বৃদ্ধির পর বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:০৮ অপরাহ্ণ
টানা কয়েক দফা দাম বাড়ার পর বিশ্ববাজারে কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দর কিছুটা কমেছে। তবে সৌদি আরবে হামলার কারণে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা এবং রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা ঘিরে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি সম্ভাব্য বাড়তি রপ্তানির খবর বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর বিপরীতমুখী প্রভাব ফেলছে। ফলে একদিকে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা দামে নিম্নমুখী প্রবণতা আনছে।

কমেছে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে ১০৬ দশমিক ০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯৩ দশমিক ২৭ ডলারে নেমেছে।

এর আগে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ২ ডলার বেড়েছিল। ওই দিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৬৫ ডলারে স্থির হয়। ১৫ সেপ্টেম্বরের পর এটিই ছিল ব্রেন্টের সর্বোচ্চ সমাপনী দর।

সোমবারের মূল্যবৃদ্ধির পর মঙ্গলবার দর কিছুটা কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করছে সরবরাহ পরিস্থিতি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর রপ্তানি কার্যক্রমের ওপর।

সৌদি আরবে হামলার আশঙ্কায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে হামলার কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কা বাজারে দাম বাড়ার চাপ তৈরি করছে। সৌদি আরব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদক হওয়ায় দেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে।

তেল উৎপাদন বা পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিলে ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য ঘাটতির ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে লেনদেন করেন। এতে প্রকৃত সরবরাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার আগেই বাজারে দামের ওঠানামা দেখা দিতে পারে।

তবে সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা থাকলেই যে তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়বে, তা নয়। অন্যান্য উৎপাদক দেশের সরবরাহ, চাহিদার পরিবর্তন এবং রপ্তানির পরিস্থিতিও দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা

অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করছে। রাশিয়ার রপ্তানি বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ কমতে পারে। এই সম্ভাবনা তেলের দাম বৃদ্ধির প্রবণতাকে সীমিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থাৎ, সৌদি আরবে হামলার আশঙ্কা যেখানে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, সেখানে রাশিয়ার বাড়তি রপ্তানির সম্ভাবনা বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি করছে। এই দুই বিপরীতমুখী পরিস্থিতির প্রভাবেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমা বা বাড়ার প্রভাব বিভিন্ন দেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়তে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এক দিনের মূল্যহ্রাসের কারণে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম তাৎক্ষণিকভাবে কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। স্থানীয় মূল্য নির্ধারণে আমদানি ব্যয়, বিনিময় হার, কর ও অন্যান্য খরচও গুরুত্বপূর্ণ।

পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করছে সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর

সোমবারের মূল্যবৃদ্ধির পর মঙ্গলবার ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমলেও বাজারের অনিশ্চয়তা কাটেনি। সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির পরিমাণ নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এলে দামের প্রবণতায় পরিবর্তন আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখন ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও সম্ভাব্য সরবরাহ বৃদ্ধির টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। সরবরাহে বাস্তব কোনো বিঘ্ন ঘটে কি না এবং রাশিয়ার রপ্তানি কতটা বাড়ে, তার ওপর নির্ভর করবে আগামী দিনে তেলের বাজার কোন দিকে যায়।

সূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/এসএ

 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন