রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইইউর বড় পদক্ষেপ, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ১,৬০০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৩ অপরাহ্ণ
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে মস্কোর ওপর চাপ আরও জোরদার করতে নিষেধাজ্ঞার তালিকা সম্প্রসারণ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। নতুন পদক্ষেপে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক উৎপাদন ও যুদ্ধসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর, সোমবার এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ব্রাসেলস থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান বন্ধে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়েছে ইইউ।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণের দাবি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস নতুন এ পদক্ষেপকে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর নিষেধাজ্ঞার তালিকায় সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর সম্মিলিত অবস্থান আবারও তুলে ধরা হয়েছে।

কালাস বলেন, ‘রাশিয়া যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় এটিই সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ। ইউরোপ আবারও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দেখাচ্ছে।’

ইইউর এ পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধু নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নতুন নাম যুক্ত করা নয়; বরং রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ানো। এর মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, যুদ্ধসংশ্লিষ্ট সরবরাহব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে সীমিত করার প্রচেষ্টা জোরদার করতে চায় জোটটি।

তালিকাভুক্তদের অর্ধেকের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত

কাজা কালাস জানিয়েছেন, নতুন করে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্ধেকেরও বেশি রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। ফলে এবারের পদক্ষেপে রাশিয়ার সামরিক শিল্প ও অস্ত্র উৎপাদন খাত বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে সামরিক উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং নিষেধাজ্ঞার পৃথক শর্ত সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে চাপ অব্যাহত রাখছে ইইউ

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এসব পদক্ষেপের আওতায় রাশিয়ার বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও যুদ্ধসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

নতুন করে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। ইইউর অবস্থান অনুযায়ী, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কের ওপর চাপ বজায় রাখা এবং সামরিক উৎপাদন সীমিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষণগতভাবে, নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নির্ভর করবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কতটা সীমিত হয়, নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ রাশিয়ার কতটা থাকে—এসব বিষয়ের ওপর।

সব মিলিয়ে, নতুন এ পদক্ষেপের মাধ্যমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করায় রাশিয়ার সামরিক শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে।

সূত্র: এএফপি

কালের আলো/এসএ

 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন