লবণাক্ত পানি সুপেয় করতে কক্সবাজারে ইউএইর সঙ্গে যৌথ প্রকল্পের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:২০ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারে লবণাক্ত পানিকে সুপেয় পানিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ইউএইর বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএইর রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী খাসিফ আবদুল্লাহ আলহামুদির সঙ্গে বৈঠকে এসব প্রস্তাব দেন মন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা, বিদেশি বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে দেশের ভবিষ্যৎ পানি নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে ভবিষ্যতে বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানির বিকল্প উৎস অনুসন্ধান এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ত পানিকে সুপেয় পানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ইউএইর সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। এ লক্ষ্যে কক্সবাজারে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।

প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে লবণাক্ত পানি পরিশোধনের প্রযুক্তি ব্যবহার এবং এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকল্পটির ব্যয়, প্রযুক্তি, বাস্তবায়নকাল কিংবা অর্থায়নের বিষয়ে বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।

বৈঠকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, বড় অঙ্কের প্রাথমিক বিনিয়োগ করা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা কঠিন হতে পারে। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে এলে এবং বিনিয়োগের অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধের সুযোগ থাকলে তা বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক হবে।

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউএইর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে ইউএইর রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী খাসিফ আবদুল্লাহ আলহামুদি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দেশটির শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতাও কামনা করেন রাষ্ট্রদূত। দক্ষ কর্মী তৈরির মাধ্যমে ইউএইর শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়টি দুই দেশের সহযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৈঠকে ইউএই থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা উন্নতমানের লাইমস্টোন বা চুনাপাথরের ওপর কর কমানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। কর কমানো হলে বাংলাদেশে ইউএইর চুনাপাথর আমদানির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনা ও সিদ্ধান্তের ওপর।

বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ও ইউএইর রাষ্ট্রদূতের সামনে তুলে ধরেন ড. আবদুল মঈন খান। পাশাপাশি পানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, জনশক্তি এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইউএইর ইকোনমিস্ট অ্যানালিস্ট শাহমিনা ইশা মান্নান, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজারে লবণাক্ত পানি পরিশোধনের পরীক্ষামূলক প্রকল্পের প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই দেশের সম্মতি, প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা ও অর্থায়নের বিষয়গুলো চূড়ান্ত হওয়া প্রয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন