গাইবান্ধার সাতটি থানা ও আদালত চত্বরে জব্দ করা ৪২৪টি যানবাহন দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ ২০২০ সালের নভেম্বরে যানবাহন নিলামের কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও এরপর প্রায় ছয় বছরে নতুন করে কোনো নিলাম হয়নি। এতে একদিকে মূল্যবান যানবাহনের বাজারমূল্য কমছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে সম্ভাব্য রাজস্ব।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১৫টি রয়েছে আদালতের মালখানায়। থানাগুলোর মধ্যে গোবিন্দগঞ্জে ৯০টি, গাইবান্ধা সদরে ৫৭টি, পলাশবাড়ীতে ৫৫টি, সুন্দরগঞ্জে ৪২টি, সাঘাটায় ৩০টি, সাদুল্লাপুরে ২৬টি এবং ফুলছড়ি থানায় ৯টি যানবাহন পড়ে আছে।
এসব যানবাহনের বেশির ভাগ বিভিন্ন অপরাধ, বিশেষ করে মাদকসংক্রান্ত মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছিল। এ ছাড়া চোরাই ও কাগজপত্রবিহীন যানবাহনও রয়েছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ না হওয়া কিংবা আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি বিলম্বিত হওয়ায় অনেক যান বছরের পর বছর পড়ে আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস, ট্রাক ও অটোরিকশার অনেকগুলোর টায়ারে বাতাস নেই। গায়ে জমেছে ধুলার স্তর, লোহার অংশে ধরেছে মরিচা। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় অনেক যানবাহন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সময়ের সঙ্গে কমছে সেগুলোর বাজারমূল্যও।
গাইবান্ধা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির রেজাউল করিম সরকার জানান, সর্বশেষ ২০২০ সালের নভেম্বরে যানবাহন নিলামের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর নতুন করে নিলাম হয়নি। তবে বর্তমানে আবারও নিলাম আয়োজনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব পিপিএম বলেন, মামলার আলামত হিসেবে জব্দ যানবাহনগুলো যাতে অযত্নে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে আদালতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেসব মামলা নিষ্পত্তির পর্যায়ে রয়েছে, সেসব মামলার আলামত দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আইনজীবীদের মতে, যেসব মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে, সেসব মামলার আলামত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত নিলামে তোলা প্রয়োজন। এতে থানা ও আদালত চত্বরে জায়গার সংকট কমবে এবং দীর্ঘদিন পড়ে থেকে মূল্যবান যানবাহন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান বলেন, যেসব মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে, সেগুলোর আলামত আইন অনুযায়ী দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধের পাশাপাশি যানবাহনগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা ও নিলাম কার্যক্রমের ধীরগতিই এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিলামের ব্যবস্থা করা গেলে যানবাহনের মূল্যহ্রাস ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় কমানোর পাশাপাশি সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব আদায়ও সম্ভব হবে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

গাইবান্ধা সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:৫৯ অপরাহ্ণ