নিজের ফেসবুক পোস্টে সোহানা সাবা জানিয়েছেন, জন্মদিনে তাঁর মন এমনিতেই ভালো থাকে। মনে হয়, এই দিনেই পৃথিবীতে এসেছিলেন তিনি, তাই দিনটি একান্তই তাঁর। তবে একই সঙ্গে জীবনের আরও একটি বছর পেরিয়ে যাওয়ার কারণে মন খারাপও হয়। সময়ের সঙ্গে জন্মদিনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে, বদলেছে মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার অভিজ্ঞতাও।
কখনো শুভেচ্ছা এড়াতে নিজেকে আড়াল করেছেন
সোহানা সাবার ভাষ্য অনুযায়ী, জীবনের একপর্যায়ে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন, যখন জন্মদিনে পরিচিতদের কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখতেন। চারপাশের অশান্তির কারণে চাইতেন, কেউ যেন তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে না পারেন।
পরে অবশ্য জন্মদিন নিয়ে তাঁর ভাবনায় পরিবর্তন আসে। মানুষের শুভেচ্ছা, প্রশংসা ও ভালোবাসা উপভোগ করতে শুরু করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার সঙ্গে নিজের আনন্দ ভাগ করে নেওয়াও ভালো লাগতে থাকে।
কঠিন সময়ে পরিচিতদের দূরত্ব, অপরিচিতদের ভালোবাসা
জন্মদিন ঘিরে দুই বছর আগের অভিজ্ঞতার কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন সাবা। তাঁর দাবি, নিজের বিশ্বাস, নীতিবোধ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান এবং দেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণে পরিচিত অনেকের কাছ থেকে আগের মতো ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা পাননি। এমনকি কেউ কেউ তাঁর সঙ্গে পরিচয়ের বিষয়টি প্রকাশ করতেও অস্বস্তি বোধ করতেন বলে তাঁর মনে হয়েছে।
তবে সেই কঠিন সময়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতাও হয়েছে তাঁর। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক অপরিচিত মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন এবং সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ ব্যক্তিগত বার্তায় জানিয়েছেন, সাবার কথা তাঁদের অনুপ্রাণিত করে।
অভিনেত্রীর কাছে এই ভালোবাসা ছিল বিশেষ প্রাপ্তি। পরিচিত মানুষের দূরত্বের বিপরীতে অপরিচিতদের আন্তরিকতা তাঁকে নতুন করে সাহস জুগিয়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
এবারের জন্মদিনে ভালোবাসায় অভিভূত
গত বছর পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ করলেও এবারের জন্মদিনের অভিজ্ঞতা আরও আলাদা বলে জানিয়েছেন সোহানা সাবা। পরিচিত-অপরিচিত, বন্ধু, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় অভিভূত তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া বার্তা, মন্তব্য ও ফোনকলকে মূল্যবান বলে উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী। সবাইকে আলাদা করে উত্তর দেওয়া সম্ভব না হলেও চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কোনো বার্তার উত্তর দিতে না পারলে যেন কেউ অভিমান না করেন, সেই অনুরোধও করেছেন সাবা।
‘আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, আমার আদর্শ নিয়েই থাকব’
জন্মদিনের পোস্টে নিজের বিশ্বাস ও রাজনৈতিক-সামাজিক অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন সোহানা সাবা। তিনি লিখেছেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি মুক্তিযুদ্ধকে ভালোবাসি, বাংলাদেশকে ভালোবাসি। আমার বিশ্বাস, আমার আদর্শ, আমার মেরুদণ্ড, সবকিছু নিয়েই আমি যেমন ছিলাম, তেমনই থাকব।’
নিজের অবস্থানে অবিচল থাকার প্রত্যয় জানিয়ে অভিনেত্রী আরও বলেছেন, মাথা উঁচু করে এবং মেরুদণ্ড সোজা রেখেই থাকতে চান তিনি। তাঁর বিশ্বাস থেকে তাঁকে কেউ এক বিন্দুও টলাতে পারবে না—এমন দৃঢ় মনোভাবও প্রকাশ করেছেন তিনি।
স্বাধীনভাবে পৃথিবী ঘুরে বেড়ানোর আক্ষেপ
এত মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার আনন্দের মধ্যেও একটি আক্ষেপ রয়ে গেছে সোহানা সাবার। পাখির মতো এক দেশ থেকে অন্য দেশে, এক আকাশ থেকে আরেক আকাশে উড়ে বেড়াতে ভালোবাসেন তিনি। কিন্তু নিজের ইচ্ছেমতো স্বাধীনভাবে পৃথিবী ঘুরে বেড়ানোর সেই আনন্দ এখন আর পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
তাঁর মতে, সেই স্বাধীনতা ফিরে পেলে জীবন আরও পরিপূর্ণ হয়ে উঠত। ব্যক্তিগত এই আক্ষেপের পাশাপাশি জীবনের সৌন্দর্য এবং মানুষের ভালোবাসার মূল্যও তুলে ধরেছেন তিনি।
নাচ থেকে চলচ্চিত্র—সোহানা সাবার পথচলা
ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন সোহানা সাবা। মায়ের আগ্রহ ও অনুপ্রেরণায় নাচ শেখা শুরু করেন তিনি। বুলবুল ললিতকলা একাডেমি ও ছায়ানটে শাস্ত্রীয় নাচের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রায় ১৪ বছর নাচের চর্চা করেছেন এই অভিনেত্রী।
মঞ্চে নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ক্যামেরার সামনেও কাজের অভিজ্ঞতা হয় তাঁর। পরে টেলিভিশন নাটক ও বিজ্ঞাপনে কাজ শুরু করেন। অভিনয়ে পরিচিতি পাওয়ার পর বড়পর্দায়ও নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। কবরী পরিচালিত ‘আয়না’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করলেও মুক্তির হিসাবে মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ‘খেলাঘর’ তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা।
জন্মদিনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সোহানা সাবা শেষ পর্যন্ত ফিরে গেছেন ভালোবাসার কথায়। তাঁর উপলব্ধি, জীবন সুন্দর; আর এত মানুষের ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকা আরও সুন্দর। নানা অভিজ্ঞতা, নিজের বিশ্বাস এবং মানুষের আন্তরিকতা মিলিয়ে এবারের জন্মদিনকে বিশেষ করে তুলেছে তাঁর কাছে।
কালের আলো/এসএ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:১৫ অপরাহ্ণ