বিমানবন্দর-উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর বিমানবন্দর ও উত্তরার জসীমউদ্‌দীন এলাকায় চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালেও বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার বাসের যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান বেতন দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যসহ জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিমানবন্দর-উত্তরায় যান চলাচলে বিঘ্ন

বৃহস্পতিবার উত্তরার একাধিক পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলনে অংশ নেন। তাঁদের অবস্থান ও বিক্ষোভের কারণে বিমানবন্দর ও জসীমউদ্‌দীন এলাকার সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফলে কর্মস্থলে যাওয়া মানুষ এবং দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

কিশোরগঞ্জ থেকে আসা অনন্যা পরিবহনের যাত্রী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, যানজট এড়াতে তিনি ভোরেই রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দর এলাকায় এসে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে আছেন। কখন সড়ক ছাড়বে এবং কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, তা বুঝতে পারছেন না।

রাইদা পরিবহনের যাত্রী শেহজাদ আহমেদ বলেন, বাড্ডায় অফিসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের কারণে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর শেষ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে রওনা হয়েছেন। কত দূর যেতে পারবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

আগের দিনের ঘোষণা অনুযায়ী আবারও আন্দোলন

এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে বিমানবন্দর ও জসীমউদ্‌দীন এলাকার বিভিন্ন স্থানে কয়েক শ পোশাকশ্রমিক জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

বুধবারের কর্মসূচি সম্পর্কে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সকাল থেকে বিমানবন্দর থেকে জসীমউদ্‌দীন পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে কয়েক শ পোশাকশ্রমিক অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে বেলা দেড়টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালানোর ঘোষণা

বুধবার আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানিয়েছিলেন, সেদিনের কর্মসূচি শেষ হলেও বৃহস্পতিবার আবারও তাঁরা সড়কে নামবেন। বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছিলেন তাঁরা।

সেই ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবারও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের মূল দাবি, ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা। শ্রমিকদের ভাষ্য, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা বাড়ানো প্রয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন