বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর অবাধে চলাফেরা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রবেশের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান। তাঁর দাবি, কূটনীতিকের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি কার্যালয়ে প্রবেশের বিষয়টি দেশের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১২টায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার প্রতিবাদ, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবাদ দমন এবং ভারতীয় হাইকমিশনারের কথিত অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ-সমাবেশে এসব কথা বলেন খোমেনী ইহসান।
হাইকমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সমাবেশে খোমেনী ইহসান বলেন, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর অবাধে চলাফেরা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রশাসনিক স্বাধীনতার প্রতি অবমাননাকর এবং কূটনৈতিক রীতিনীতির পরিপন্থী।
তিনি অভিযোগ করেন, কূটনীতিকের ভূমিকার পরিবর্তে দীনেশ ত্রিবেদী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি কার্যালয়ে প্রবেশ করছেন। দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে হাইকমিশনারের চলাফেরা বা সরকারি দপ্তরে প্রবেশের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে সমাবেশে বিস্তারিত প্রমাণ বা নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে কি না, তা সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ নেই।
আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি
সমাবেশে আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দল হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান খোমেনী ইহসান। এ জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
খোমেনী ইহসান বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দল হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ বর্তমান সরকারকে নিতে হবে। তাঁর দাবি, দলটিকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিশ্বের কোথাও স্বাভাবিকভাবে অবস্থান করতে পারবেন না এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের সুযোগও হারাবেন।
তিনি আরও বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো নোবেলজয়ী ব্যক্তিকে হেনস্তা করার সাহস যেন কেউ না পায়, সে জন্য আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ প্রয়োজন।
এগুলো সমাবেশে খোমেনী ইহসানের দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য ও দাবি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলকে এভাবে চিহ্নিত করার সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া বা পরিণতি সম্পর্কে সমাবেশে বিস্তারিত ব্যাখ্যার তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভ-সমাবেশে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা
জাতীয় বিপ্লবী পরিষয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে সংগঠনটির সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ, সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম ও মো. সাইদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মীর শওকত আমীন, মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম এবং নবাব সলিমুল্লাহ অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান মো. আবদুল জব্বারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার প্রতিবাদ জানান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিতর্ক
সমাবেশে ভারতীয় হাইকমিশনারের ভূমিকা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ এবং আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তবে কোনো কূটনীতিকের কর্মকাণ্ড কূটনৈতিক রীতিনীতির পরিপন্থী কি না, তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঘটনা, সংশ্লিষ্ট বিধি এবং প্রাসঙ্গিক সরকারি বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:৫৯ অপরাহ্ণ