চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে একের পর এক বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় উড়োজাহাজের নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত এক মাসে বিমানবন্দরের রানওয়ে ও গুরুত্বপূর্ণ নেভিগেশন-সংশ্লিষ্ট ভিওআর এলাকায় অন্তত নয় দফা চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। চোরের দল ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক ক্যাবল, রানওয়ের লাইট, লাইটিং ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ, তামার তারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম নিয়ে গেছে। চুরি হওয়া সরঞ্জামের মূল্য অর্ধকোটি টাকার মতো বলে জানা গেছে।
বিমানবন্দরের মতো কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে বারবার এমন চুরির ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘটনায় কর্তৃপক্ষের তদারকি ও সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। এমনকি চুরি করা মালামালসহ এক ব্যক্তিকে আটক করার পরও তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরই মধ্যে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা অডিট হওয়ার কথা রয়েছে। এমন সময়ে শাহ আমানত বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকায় ধারাবাহিক চুরির ঘটনা দেশের সামগ্রিক বিমান নিরাপত্তাব্যবস্থা ও তদারকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এক মাসে নয় দফা চুরি, অন্ধকারে রানওয়ের অংশ
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে বিমানবন্দরের এয়ারসাইড—অর্থাৎ যেসব এলাকায় উড়োজাহাজ চলাচল ও অবস্থান করে—সেখান থেকে একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে রানওয়ের লাইট, লাইটিং ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি কিট, ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক ক্যাবল, তামার তার, সেকেন্ডারি ক্যাবল কিট, লাইটিং সিস্টেমের ম্যাগনেটিক কন্টাক্ট, লুপিং ক্যাবল ও বিভিন্ন ডিভাইস।
এ ছাড়া প্রায় ৫০০ গজ দূরত্বের স্ট্রিট লাইটের ক্যাবল এবং ভিওআর ব্যবস্থার বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যবহৃত ক্যাবলও চুরি হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। একের পর এক এসব সরঞ্জাম চুরি হওয়ায় বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ আলোকব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে।
গত ৬ অক্টোবর রাত সোয়া ৯টার দিকে বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) থেকে ইলেকট্রোমেকানিক্যাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জানানো হয়, পতেঙ্গা বোট ক্লাবের পশ্চিম দিকে সমুদ্রসৈকতের দিকে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ফুট দূরত্বে রানওয়ের ২৩ থেকে ০৫ নম্বর অ্যাপ্রোচ এলাকার লাইট জ্বলছে না। পরে বৈদ্যুতিক বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাইট বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই রাতে চোরের দল ২০টি ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি কিট ও রানওয়ের লাইটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়ে যায়। রানওয়ের অ্যাপ্রোচ লাইট উড়োজাহাজকে অবতরণের সময় দিক ও অবস্থান বুঝতে সহায়তা করে। তাই এসব সরঞ্জামের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়া কিংবা আলোকব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হওয়া উড্ডয়ন-অবতরণের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
মাটির পাঁচ ফুট নিচ থেকেও ক্যাবল কেটে নিচ্ছে চোরেরা
এর আগে গত ৯ অক্টোবর রানওয়ের ২৩ নম্বর অ্যাপ্রোচ এলাকায় মাটির প্রায় পাঁচ ফুট নিচে থাকা ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক ক্যাবল কেটে তামার তার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগ রয়েছে। চোরের দল ক্যাবলের বাইরের ইনসুলেশন বা আবরণ রেখে যাওয়ায় ঘটনাটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
একই এলাকায় রানওয়ের লাইটিং সিস্টেমের ম্যাগনেটিক কন্টাক্ট, লুপিং ক্যাবল, বিভিন্ন ডিভাইস এবং ভূগর্ভস্থ ক্যাবলও চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। বিমানবন্দরের সীমানার ভেতরে প্রবেশ করে এ ধরনের সরঞ্জাম চুরি করার ঘটনা কীভাবে বারবার ঘটছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর কার্গো শাখার পশ্চিম প্রান্ত থেকে রানওয়ের শেষ প্রান্তের ০৫ নম্বর অ্যাপ্রোচ এলাকার সিকিউরিটি লাইটের ক্যাবল কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে ওই এলাকার আলো দুই দিন বন্ধ ছিল।
সূত্রটির দাবি, ক্যাবল চুরির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কয়েকটি উড়োজাহাজ নিরাপদে অবতরণ করতে না পেরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে অবতরণ করে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে রানওয়ের আলোকব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ভিওআর এলাকায় বারবার চুরি, বিকল্প ব্যবস্থাও নিরাপদ নয়
শাহ আমানত বিমানবন্দরের সবচেয়ে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোর একটি হলো ভিওআর বা ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি ওমনি-ডিরেকশনাল রেঞ্জ এলাকা। উড়োজাহাজের নেভিগেশনে এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এ এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিমানবন্দরের দক্ষিণ প্রান্তে নিজাম মার্কেটের ঠিক সামনের সীমানার ভেতর থেকে গত এক মাসে দুইবার বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বারবার ভূগর্ভস্থ ক্যাবল চুরির পর বিকল্প হিসেবে ওভারহেড লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকেও ক্যাবল চুরির অভিযোগ উঠেছে।
এতে শুধু সরঞ্জাম চুরিই নয়, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা এবং বিকল্প ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্পর্শকাতর নেভিগেশন-সংশ্লিষ্ট এলাকায় এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নজরদারি, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত পরিদর্শন কতটা কার্যকর, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
আটক করার পরও চোরকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ
বিমানবন্দর সূত্রের দাবি, এর আগে ভিওআর এলাকা থেকে বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরির সময় চুরি করা মালামালসহ চোর চক্রের এক সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেন কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা। পরে তাঁকে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে সোপর্দ করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এ ছাড়া বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জাপানি গেট থেকে প্রায় ২০ গজ দূরত্বের মধ্যে বিজিবির হ্যাঙ্গার এলাকা থেকে ১২ হাজার কিলোভোল্টের বৈদ্যুতিক ক্যাবল কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। অথচ বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জাপানি গেটসহ তিনটি প্রবেশপথে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তাকর্মীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।
এসব ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তাবেষ্টনীর কার্যকারিতা, সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া এবং চুরির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শত শত নিরাপত্তাকর্মী, তবু সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থায় চারটি ইউনিট কাজ করে। এগুলো হলো বেবিচকের নিরাপত্তা শাখা, বিমানবাহিনীর টাস্কফোর্স, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং আনসার সদস্যরা। এসব ইউনিটের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব বেবিচকের নিরাপত্তা শাখার।
বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা শাখার অধীনে ১৫০ জন কর্মচারী, বিমানবাহিনীর টাস্কফোর্সের ১৮০ জন সদস্য, এপিবিএনের প্রায় ৫০ জন সদস্য এবং ২০০ জন আনসার সদস্য রয়েছেন। অর্থাৎ নিরাপত্তার দায়িত্বে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জনবল থাকার পরও স্পর্শকাতর এলাকায় বারবার চুরির ঘটনা ঘটায় তদারকি ও সমন্বয়ের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানবন্দরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত এক বছরে স্পর্শকাতর এলাকা থেকে বহুবার গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। কয়েক দিন আগেও রানওয়ের লাইট দৃশ্যমান না হওয়ার বিষয়টি দেশি-বিদেশি কয়েকটি এয়ারলাইনসের পাইলট এটিসিকে জানিয়েছেন বলে দাবি তাঁদের।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিমানবন্দরের সীমানা এলাকায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ করা আনসার সদস্যদের একটি অংশের দক্ষতা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন যাচাই কিংবা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা নিয়েও অভিযোগ
একজন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা শাখায় সাতজন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা তারেক জিয়াউদ্দীন সজিব ছাড়াও বাদশা ফয়সাল, পলাশ সাহা ও রাশেদুল ইসলাম উল্লেখযোগ্য। চলতি বছরের শুরুতে তিনজন কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছেন এবং অন্য চারজন ২০২৩ সালে নিয়োগ পেয়েছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তা শাখার সাত কর্মকর্তার কেউই এখন পর্যন্ত শিক্ষানবিশ পর্যায় অতিক্রম করতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও চেইন অব কমান্ডের ঘাটতি রয়েছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট একজন বিশেষজ্ঞ।
তবে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ঘাটতি সম্পর্কে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়নে এসব অভিযোগের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব বণ্টন, নজরদারি ও ঘটনার পর গৃহীত পদক্ষেপের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
আইকাও অডিটের আগে বাড়তি উদ্বেগ
আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আইকাওর ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ (ইউএসএপি-সিএমএ) অডিট হওয়ার কথা রয়েছে। অডিট দলের বেবিচকের সদর দপ্তর ছাড়াও ঢাকার হযরত শাহজালাল, চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিমান নিরাপত্তাব্যবস্থাপনা এবং বাস্তবায়ন কাঠামো পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অডিটে কেবল কাগজে-কলমে থাকা নীতিমালা বা প্রটোকল নয়, মাঠপর্যায়ে সেগুলোর বাস্তব প্রয়োগও গুরুত্বপূর্ণ। বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকা থেকে বারবার গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি হওয়ার ঘটনা নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, আইকাওর পর্যালোচনা শুধু কোনো একটি বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ থাকবে না; দেশের সামগ্রিক বিমান নিরাপত্তা তদারকি ও বাস্তবায়নব্যবস্থাও এর আওতায় আসবে। এ অবস্থায় শাহ আমানত বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এবং সেগুলোর পর কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের আরও অভিযোগ, গত এক মাসে ভিওআর এলাকাসহ স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে একাধিকবার চুরি হলেও বিষয়টি বেবিচকের সদর দপ্তর কিংবা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে যথাসময়ে জানানো হয়নি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে অস্পষ্টতা
গত বুধবার, ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা শাখার প্রধান তারেক জিয়াউদ্দীন সজিব গত এক মাসে নয় দফা চুরির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। এ বিষয়ে বিমানবন্দরের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে তিনি আর বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে, বেবিচকের মেম্বার সেক্রেটারি এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল শাহ আমানত বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকা থেকে একাধিকবার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরির ঘটনা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
তবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিংবা চুরি প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. নুর হোসেনের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও উত্তর পাওয়া যায়নি।
প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার যাত্রীর চলাচল
সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন ১৮ থেকে ২৪টি আন্তর্জাতিক এবং ৩২ থেকে ৪০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল করে। এসব ফ্লাইটে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার হাজার যাত্রী ওঠানামা করেন।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত এ স্থাপনায় রানওয়ের আলোকব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নেভিগেশন-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সচল রাখা যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে স্পর্শকাতর এলাকায় ধারাবাহিক চুরির ঘটনা কেবল সম্পদের ক্ষতি নয়; এসব সরঞ্জামের কার্যকারিতা বিঘ্নিত হলে বিমান চলাচলের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:৩৮ অপরাহ্ণ