সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ এবং সেগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট ইন দ্য চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস সেক্টর প্রজেক্ট’-এর ষষ্ঠ প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব
সভায় সাচিং প্রু বলেন, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের কল্যাণে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা সম্ভব।
পাহাড়ে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে তাগিদ
পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান সমস্যা সুপেয় পানির সংকট। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান ও বিভিন্ন স্থানীয় বাস্তবতার কারণে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ এবং দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন সাচিং প্রু। তাঁর মতে, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং মৌলিক সেবার সুযোগ বাড়াতে নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য সরকারের
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ভৌগোলিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিবেচনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এ অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে স্থানীয় বাস্তবতা এবং জনগণের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা, সুশাসন এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে পেশাদারত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
দুর্নীতিমুক্ত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আরও বলেন, সরকার দুর্নীতিমুক্ত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে। এই উন্নয়নযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে সৎ, দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীল কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
সরকারি প্রকল্পের পরিকল্পনা, অর্থের ব্যবহার এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি জনগণের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা সভায় উঠে আসে।
কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:৩৯ অপরাহ্ণ