খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ, চাপে নিম্ন আয়ের পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, বন্যায় কৃষির ক্ষতি এবং শিশুদের অপুষ্টি—সব মিলিয়ে বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশে তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে। বছরের শুরুর তুলনায় এই সংখ্যা ২৮ লাখ বেশি।

গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে খাদ্যের দাম, মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ এবং পুষ্টির ঘাটতিকে বড় উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্যসহায়তা নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস। এমন এক সময়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে, যখন দেশের অনেক পরিবারকে আয় ও ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে খাবারের পরিমাণ কিংবা পুষ্টির মানের সঙ্গে আপস করতে হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বছরের শুরু থেকে খাদ্যঝুঁকিতে আরও ২৮ লাখ মানুষ

ডব্লিউএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ে বাংলাদেশে তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ হতে পারে। বছরের শুরুর তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২৮ লাখ।

খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা বলতে শুধু খাবার না পাওয়া বোঝায় না। প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাবার নিয়মিত সংগ্রহ করতে না পারা, পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য হারানো কিংবা খাবারের খরচ মেটাতে পরিবারের অন্য জরুরি ব্যয় কমিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর আয় যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না, তখন খাদ্যের পরিমাণ ও গুণগত মান—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে উঠে আসা ঝুঁকির পেছনেও মূল্যস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস ও দুর্যোগের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

১৯৭৯ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০তম সম্মেলনে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ১৯৮১ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হয়। ২০২৬ সালের বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য—‘আজকের উদ্ভাবন, আগামী দিনের পুষ্টি’।

খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো, সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা এবং মানুষের কাছে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া—খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে উৎপাদন ও সরবরাহ থাকলেই যে সব মানুষ পর্যাপ্ত খাবার পাবেন, তা নয়। খাবার কেনার মতো আয় ও ক্রয়ক্ষমতা না থাকলে বাজারে খাদ্যপণ্য থাকা সত্ত্বেও অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করতে পারে না।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাব, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন জরিপে উঠে আসা উদ্বেগ খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, একটি জনগোষ্ঠী সব সময়ই খাদ্যঝুঁকিতে থাকে; তবে অর্থনৈতিক চাপ ও দুর্যোগের কারণে সেই জনগোষ্ঠীর পরিধি বাড়তে পারে।

অপুষ্টির প্রভাব পড়ছে শিশুদের বেড়ে ওঠায়

খাদ্যসংকটের প্রভাব শুধু ক্ষুধার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়া এবং খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি চার শিশুর একজন খর্বকায়—অর্থাৎ বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম। একই বয়সী শিশুদের মধ্যে ১১ শতাংশ ক্ষীণকায়, অর্থাৎ উচ্চতার তুলনায় ওজন কম।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি পাঁচটি পরিবারের দুটিতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় অণুপুষ্টির ঘাটতি রয়েছে। শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও সামগ্রিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকাও জরুরি। কিন্তু খাদ্যপণ্যের দাম বেশি হলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তুলনামূলক কম দামের খাবারের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হতে পারে। এতে পেট ভরলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত না হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি

খাদ্যনিরাপত্তার ওপর জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবও বাড়ছে। ডব্লিউএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার কৃষক পরিবার এবং ১৩ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাই তৈরি হয় না; কৃষকের আয়, শ্রমের চাহিদা এবং স্থানীয় বাজারে খাদ্য সরবরাহও ব্যাহত হতে পারে। দুর্যোগে ফসল ও জীবিকার ক্ষতি হলে অনেক পরিবারকে একদিকে আয় হারানোর চাপ, অন্যদিকে বাজার থেকে খাবার কেনার বাড়তি ব্যয় সামলাতে হয়।

ফলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রভাব কৃষক পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে স্থানীয় খাদ্যবাজার এবং ভোক্তাদের ওপরও পড়তে পারে। জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষি উৎপাদন, জীবিকা পুনরুদ্ধার এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবের আশঙ্কা

বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি শুধু অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি বা কৃষি উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল নয়। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিও এর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ওই অঞ্চলে অস্থিরতা বা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ব্যাহত হলে তা দেশের পরিবারগুলোর আয় ও ভোগব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রবাসী আয় বাংলাদেশের বহু পরিবারের জীবনযাত্রা, খাদ্য কেনা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এই আয় কমে গেলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং সরবরাহব্যবস্থার পরিবর্তনও দেশের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও দাম কমেনি

২০২২ সালের শুরুতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাংলাদেশে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, যা বিগত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। এরপর কয়েক মাস খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে অবস্থান করে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ২২ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

তবে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার কমার অর্থ বাজারে পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়। এর অর্থ, আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কমেছে। অতীতে পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গিয়ে থাকলে মূল্যস্ফীতি কমলেও ক্রেতাকে আগের চেয়ে বেশি দামেই পণ্য কিনতে হতে পারে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, বাজারে এখন মোটা চালের কেজি কমপক্ষে ৫০ টাকা। খোলা আটার দামও একই পর্যায়ে। সীমিত আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে চাল ও আটার মতো প্রধান খাদ্যপণ্যের এই দাম সংসারের বাজেটে বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

প্রবৃদ্ধি কমা ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ১৩ অক্টোবরের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে যেতে পারে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং মূল্যস্ফীতি উঁচুতে থাকার সম্ভাবনা মানুষের আয়, কর্মসংস্থান ও ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়। বিশেষ করে যাঁদের আয় নির্দিষ্ট বা অনিয়মিত, তাঁদের জন্য খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামাল দেওয়া আরও কঠিন হতে পারে।তবে আইএমএফের এই পরিসংখ্যান পূর্বাভাস; এটি ভবিষ্যতের নিশ্চিত ফল নয়। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নীতিগত পদক্ষেপ এবং দেশি-বিদেশি নানা উপাদানের পরিবর্তনে বাস্তব চিত্র ভিন্ন হতে পারে।

খাদ্যসহায়তা বিতরণে আগের বছরের তুলনায় কম চাল-গম

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় ৮ লাখ ৩৪ হাজার টন চাল ও গম বিতরণ করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই পরিমাণ ৪৮ হাজার টন কম।

অন্যদিকে, দেশে খাদ্যশস্যের মজুত প্রায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার টন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমান হিসাবে ভালো অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে খাদ্যশস্যের মজুত পর্যাপ্ত থাকা এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে যথাসময়ে সহায়তা পৌঁছানো দুটি আলাদা বিষয়।

মজুত থেকে খাদ্য বিতরণ কতটা কার্যকরভাবে হচ্ছে, কোন জনগোষ্ঠী সহায়তা পাচ্ছে এবং যাঁরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন তাঁরা তালিকার আওতায় আসছেন কি না—এসব বিষয় খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ।

ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে দ্রুত সহায়তার পরামর্শ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, এই মুহূর্তে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের পরিবার, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, নারীপ্রধান পরিবার এবং দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষের জন্য খাদ্যসহায়তা, ন্যায্যমূল্যে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি এবং লক্ষ্যভিত্তিক নগদ সহায়তার পরিধি বাড়াতে হবে।বাজারে কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি ও কারসাজি প্রতিরোধেও গুরুত্ব দিয়েছেন এই অর্থনীতিবিদ। তাঁর মতে, নিয়মিত বাজার নজরদারি এবং সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু খাদ্যশস্যের উৎপাদন বা সরকারি মজুত বাড়ানো যথেষ্ট নয়। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, কর্মসংস্থান, কৃষকের জীবিকা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং শিশুদের পুষ্টি—সব বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।

একদিকে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে সময়মতো খাদ্য ও নগদ সহায়তা দেওয়া, অন্যদিকে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির ওপর নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং শিশু ও পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।

বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য উদ্ভাবন ও পুষ্টির গুরুত্ব সামনে আনলেও বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো—পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি সেই খাদ্য সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা। ডব্লিউএফপির পূর্বাভাসে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির যে চিত্র উঠে এসেছে, তা খাদ্যসহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও লক্ষ্যভিত্তিক করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন