কিশোর গ্যাং নির্মূলে ওসিকে দুই মাসের আলটিমেটাম চিফ হুইপের

বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:৩৮ অপরাহ্ণ

কিশোর গ্যাং নির্মূলে বরগুনার পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীমকে দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মনি। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ। সভায় পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ওসিকে সরাসরি সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং যদি নির্মূল করতে না পারেন, আপনি থাকবেন না। আগামী দুই মাস টাইম, দুই মাস। কিশোরগ্যাং উল্টিয়ে ঝুলাইবেন গাছে। কোনও কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না।’ তাঁর এই বক্তব্যে পাথরঘাটায় কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কঠোর চাপ দেওয়ার বার্তা উঠে এসেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি চান তিনি।

সভায় চাঁদাবাজি বন্ধের ওপরও গুরুত্ব দেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি করে যারা খাবেন, চাঁদাবাজির কোনও জায়গা পাথরঘাটায় নেই। ওসি সাহেব, আপনাকে আমি এখানে বললাম, চাঁদাবাজির প্রশ্নে যদি কোনও সমস্যা থাকে, হয় আপনি থাকবেন, না হয় চাঁদাবাজ থাকবে। সন্ত্রাসী আর দখলবাজ পাথরঘাটায় থাকতে পারবে না।’ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ দখলদারত্বের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয়ের কারণে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

চিফ হুইপের বক্তব্যে নিজের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করার অভিযোগও উঠে আসে। এ বিষয়ে ওসিকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে আউয়াল নামের এক ব্যক্তি কোথায় কী করার কথা বলে চাঁদা খেয়েছে। আউয়ালসহ আরও একজন এখন পলাতক। আউয়ালকে আপনি ধরবেন এবং সেই মামলায় গ্রেফতার দেখাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের কোনও জায়গা নেই। সন্ত্রাসীদের কোনও দল নেই।’ তবে আউয়াল ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ কিংবা সংশ্লিষ্ট মামলার অন্যান্য তথ্য বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।

সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ দখলবাজি করলে তাঁকে সরাসরি ফোনে না পেলেও যেন বার্তা পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে যদি কেউ দখলবাজি করে, আমি টেলিফোন ধরতে পারি না, আপনারা আমাকে মেসেজ দিয়ে রাখবেন। আমি রাতে মেসেজ দেখি।’ নিজের নাম ব্যবহার করে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ পেলে তা জানানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে দখলবাজি কিংবা চাঁদাবাজির সুযোগ বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন চিফ হুইপ। কোস্টগার্ডের সোর্স হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘কোস্টগার্ডের সোর্স যারা আছেন, তারা সাবধান হইয়েন। প্রয়োজন হলে আমি সবাইকে গ্রেফতার করাবো। তারা থানায়ও দালালি শুরু করেছে। থানায় দালালি বন্ধ কইরেন।’ থানায় দালালি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করার বিষয়ে কঠোর বার্তা দেন তিনি। পাথরঘাটায় উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় চিফ হুইপের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি এবং থানাকেন্দ্রিক দালালি বন্ধ করা। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি ওসিকে সরাসরি নির্দেশ দেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন