সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে মাছরাঙা টেলিভিশনকে উদ্দেশ করে নিজের ক্ষোভ ও হতাশার কথা তুলে ধরেন পরীমণি। তাঁর মতে, ফটোকার্ড প্রকাশ করে দুঃখ প্রকাশ করাকে কার্যকর সমাধান বলা যায় না। কারণ, ঘটনার পরও তাঁকে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এই অভিনেত্রী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতেও বাধা
পরীমণির অভিযোগ, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কাজ কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্বাভাবিকভাবে কোনো পোস্ট করতে পারছেন না তিনি। তাঁর প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে নেতিবাচক ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। এমনকি তাঁর সন্তানদের ছবিও এসব মন্তব্য থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে নিজের পাশাপাশি সন্তানদের নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, একটি ঘটনার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত কাজ—দুই ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একজন শিল্পী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার সুযোগও যেন সংকুচিত হয়ে আসছে বলে তাঁর অভিযোগ।
‘আমার জীবনের মানসিক শান্তি নষ্ট করে দিয়েছেন’
নিজের ক্ষোভ জানিয়ে পরীমণি বলেন, ‘আমার জীবনের মানসিক শান্তি নষ্ট করে দিলেন! আমার কাজ নষ্ট করে দিলেন। এরপর কী বাকি থাকল আর।’
এই বক্তব্যের মাধ্যমে নিজের মানসিক চাপ ও পেশাগত ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। শুধু দুঃখ প্রকাশ নয়, বরং তাঁর জীবনে তৈরি হওয়া সমস্যার কার্যকর সমাধানও প্রত্যাশা করছেন তিনি।
অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি
পরীমণির বক্তব্য অনুযায়ী, মাছরাঙা টেলিভিশনের পক্ষ থেকে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছিল। তবে সেই পদক্ষেপ কবে নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘আপনারা বলেছেন অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবেন। আর কবে আনবেন সেটা।’
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশে সন্তুষ্ট নন তিনি। বরং যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং এ ধরনের পরিস্থিতির অবসান চান পরীমণি।
‘আমার কাছে অপরাধী তো এখন আপনারা’
নিজের বক্তব্যের শেষ দিকে মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রতি আরও কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেন পরীমণি। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে অপরাধী তো এখন আপনারা।’
এই মন্তব্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঘটনার দায় মাছরাঙা টেলিভিশনের ওপর চাপিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, ফটোকার্ড প্রকাশ করে দুঃখ প্রকাশ করা হলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত কাজে যে প্রভাব পড়েছে, তার কার্যকর প্রতিকার হয়নি।
তবে পরীমণির বক্তব্যের বাইরে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, মাছরাঙা টেলিভিশনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং আইনগত পদক্ষেপের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।
কালের আলো/জেএন/এসএ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:২৮ অপরাহ্ণ